Showing posts with label Bangla. Show all posts
Showing posts with label Bangla. Show all posts

Jan 29, 2020

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম।

বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ হচ্ছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা ভাষাকে কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া এবং অন্যান্য লেখার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে অন্যতম শ্রেষ্ট ভাষায় পরিনত করার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনিই একমাত্র বাঙালি কবি ‍যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। আজ এই কবির জীবনে যে সব সাহিত্য রচনা আমরা পাই তার কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

image of rabindranath's works



জন্মঃ ৭ মে ১৮৬১ বাংলা ২৫ শে বৈশাখ ১২৬৮।
মৃত্যুঃ ৭ই আগস্ট ১৯৪১ বাংলা ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮



কাব্যগ্রন্থঃ

ক্রমিককাব্যগ্রন্থপ্রকাশের সময়কাল
১। বনফুল ১৮৮০
২। গীতাঞ্জলী ১৯১০
৩। সোনারতরী ১৮৯৪
৪। মানসী ১৮৯০
৫। চিত্রা ১৮৯৬
৬। ক্ষণিকা ১৯০০
৭। খেয়া ১৯০৬
৮। বলাকা ১৯১৬
৯। সন্ধ্যা সঙ্গীত ১৮৮২
১০। চৈতালী ১৮৯৬
১১।পূরবী ১৯২৫
১২। শ্যামলী ১৯৩৬
১৩। ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী ১৮৭৭
১৪। প্রভাত সঙ্গীত ১৮৯১
১৫। উৎসর্গ ১৯১৪
১৬। মহুয়া ১৯২৯
১৭। পুনশ্চ ১৯৩২
১৮। গল্পসল্প ১৯৪১
১৯। শেষ লেখা ১৯৪১



উপন্যাসঃ-

ক্রমিকউপন্যাসপ্রকাশের সময়কাল
১।বৌঠাকুরাণীর হাট ১৮৮৩
২।চোখের বালি ১৯০৩
৩।রাজর্ষি ১৮৮৭
৪।নৌকাডুবি ১৯০৬
৫।গোরা ১৯১০
৬।চতুরঙ্গ ১৯১৬
৭।ঘরে বাইরে ১৯১৬
৮।শেষের কবিতা ১৯২৯
৯।দুই বোন ১৯৩৩
১০।যোগাযোগ ১৯২৯

নাটকঃ-

ক্রমিকনাটকপ্রকাশের সময়কাল
১।অচলায়তন ১৯১১
২।ডাকঘর ১৯১২
৩।রক্তকরবী ১৯২৬
৪।মুক্তধারা ১৯২২
৫।রাজা ১৯১০
৬।কালের যাত্রা ১৯৩২
৭।চিরকুমার সভা ১৯২৬
৮।রাজা ও রানী ১৮৮৯
৯।প্রায়শ্চিত্ত ১৯০৯
১০।তাসের দেশ ১৯৩৩


চিত্রনাট্যঃ-

ক্রমিকচিত্রনাট্যপ্রকাশের সময়কাল
১।চিত্রঙ্গদা ১৮৯২
২।শ্যামা ১৯৩৯
৩।বিসর্জন ১৮৯০
৪।মালিনী ১৮৯৬
৫।চন্ডালিকা ১৯৩৯


ছোট গল্পঃ

ক্রমিকছোটগল্পপ্রকাশের সময়কাল
১।গল্পগুচ্ছ ১৮৯৪
২।গল্পসল্প ১৯৪১
৩।তিনসঙ্গী ১৯৪০


প্রবন্ধঃ

ক্রমিকপ্রবন্ধপ্রকাশের সময়কাল
১।সভ্যতার সংকট ১৯৪১
২।স্বদেশ
৩।কালান্তর ১৯৩৭


ভ্রমণ কাহিনীঃ-

ক্রমিকভ্রমণ কাহিনীপ্রকাশের সময়কাল
১।রাশিয়ার চিঠি ১৯১৯
২।জাপান যাত্রী ১৯৩১
৩।পারস্যে ১৯১৯


উৎসর্গকৃত গ্রন্থঃ

১। বসন্ত (গীতিনাট্য) উৎসর্গ করেন কাজী নজরুল ইসলামকে।
২। কালের যাত্রা (নাটক) উৎসর্গ করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপধ্যায়কে।
৩। তাসের দেশ (নাটক) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
৪। খেয়া (কাব্যগ্রন্থটি) উৎসর্গ করেন জগদীশ চন্দ্র বসুকে।
৫। আকাশ প্রদীপ (কাব্য গ্রন্থ) সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে।
৬। বৌ ঠাকুরানীর হাট (উপন্যাসটি) উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবীকে।
৭। পূরবী (কাব্য গ্রন্থটি) উৎসর্গ করেন কবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে।


সম্পাদিত পত্রিকাঃ-

ক্রমিকপত্রিকাপ্রকাশের সময়কাল
১।সাধনা ১৮৯৪
২।ভারতী ১৮৯৮
৩।বঙ্গদর্শণ ১৯০১
৪।ভান্ডার১৯০৫
৫।তত্বাবোধিনী ১৯১১


প্রহসনঃ-

১। গোড়ায় গলদ(১৮৯২ সালে)।
২।বৈকুন্ঠের খাতা(১৮৯৭ সালে)।
৩। হাস্য কৌতুক (১৯০৭ সালে)
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম।

বিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)

চুরুলিয়ার সেই ছেলেটি
ঝাঁকড়া মাথার চুল
তিনি সবার প্রিয় কবি
কাজী নজরুল।


image of kazi nazrul's works


হা চুরুলিয়ার সেই ছেলেটি ‍যিনি আমাদের সবার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা সাহিত্যকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলা কবিতা এবং কাজী নজরুল ইসলাম যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যিনি সবার সাহিত্য জগতে প্রেরণার উৎস। আজ এই মহান কবির সংক্ষিপ্ত জীবনে যে সাহিত্যের ভান্ডার রচনা করে গেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করবো।


কাব্যগ্রন্থঃ-

১। অগ্নিবীণা (১৯২২)           ২। বিষের বাঁশী (১৯২৪)    
৩। দোলনচাঁপা (১৯২৩)       ৪। ছায়ানট (১৯২৫)
৫। সিন্ধু হিন্দোল (১৯২৭)      ৬। ভাঙ্গার গান (১৯২৪)        
৭। পুবের হাওয়া (১৯২৬)     ৮। সর্বহারা (১৯২৬)
৯।প্রলয়শিখা (১৯৩০)          ১০। সন্ধ্যা (১৯২৯)             
১১। মরুভাস্কর (১৯৫১)       ১২।ঝিঙেফুল (১৯২৬)
১৩। চক্রবাক (১৯২৯)         ১৪। জিঞ্জির (১৯২৮)           
১৫। চন্দ্রবিন্দু (১৯৩১)         ১৬। সঞ্চিতা (১৯২৫)
১৭। ফণিমনসা (১৯২৭)      ১৮। সাতভাই চম্পা ( ১৯৩৩)   
১৯। নির্ঝর (১৯৩৯)           ২০। নতুন চাঁদ (১৯৩৯)
২১। সঞ্চয়ন (১৯৫৫) এটি কবিতা সংকলন


নাটকঃ-

১।আলেয়া (১৯৩১)      
২। পুতুলের বিয়ে (১৯৩৩)      
৩। ঝিলিমিলি (১৯৩০)     
৪। মধুমালা (১৯৬০)   
৫।ঝড় (১৯৬০)


উপন্যাসঃ-

১।কুহেলিকা (১৯৩১)           ২। বাঁধনহারা (১৯২৭)       ৩। মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০)


ছোটগল্পঃ-

১।ব্যথার দান (১৯২২)       ২। রিক্তের বেদন (১৯২৫)      ৩।শিউলিমালা (১৯৩১)
৪।জিনের বাদশা             ৫। পদ্মগোখরা


প্রবন্ধঃ-

১। রাজবন্দীর জবানবন্দী (১৯২৩)        ২।দুর্দিনের যাত্রী (১৯২৬)       ৩। যুগবাণী (১৯২৬)
৪। দিওয়ানে হাফিজ (১৯৩০)          ৫। কাব্যে আমপারা (১৯৩৩)       ৬। মক্তব সাহিত্য (১৯৩৫)


অনুবাদঃ- রুবাইয়াৎ-ই হাফেজ



তার নিষিদ্ধ গ্রন্থগুলোঃ-

১। যুগবানী
২। বিষের বাঁশী
৩। ভাঙ্গার গান
৪। প্রলয়শিখা
৫।চন্দ্রবিন্দু


উৎসর্গকৃত গ্রন্থঃ-

১। সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থটি তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।
২। অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি তিটি বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন।
৩। বাঁধনহারা উপন্যাসটি তিটি নলিনীকান্ত সরকারকে উৎসর্গ করেছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্যগুলোর নাম ও রচয়িতা।

মহাকাব্য যে কোন সাহিত্যের একটি অনবদ্য সৃষ্টি। আর এই মহাকাব্য ঐ ভাষারই একটি অলংকার।আমাদের মাতৃভাষা বাংলাও পিছিয়ে নেই মহাকাব্যের দিক থেকে।


মহাকাব্য কি?
পাশ্চাত্য আদর্শানুসারে মহাকাব্য হচ্ছে বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনী। মহৎ জীবন কাহিনী অবলম্বন করে বিস্তৃত আকারে গুরুগম্ভীর ভাবকল্পনা ও ঐশ্বর্যময় শব্দভান্ডারে সজ্জিত করে যে কাব্য রচনা লেখা হয় তাকে মহাকাব্য বলে। মহাকাব্য একটি বস্তুনিষ্ঠ কবিতা।


বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য রচয়িতাগণ:

বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য এবং এর রচয়িতাদের নাম নিম্নে দেওয়া হলো।
১। মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১) =   মাইকেল মধুসুদন দত্ত
২। মহাশ্মশান  (১৯০৫) = কায়কোবাদ
৩। স্পেন বিজয় কাব্য  (১৯১৪) = সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
৪। রৈবতক  (১৮৮৭) = নবীন চন্দ্র সেন
৫। কুরুক্ষেত্র  (১৮৯৩) = নবীন চন্দ্র সেন
৬।  প্রভাস  (১৮৯৬) = নবীন চন্দ্র সেন
৭। মহাভারত =বেদব্যস
৮। রামায়ন=বাল্মিকী
৯। বৃত্র সংহার= হেমচন্দ্র বন্দ্যোপধ্যায়
১০। কাসেমবধ কাব্য (১৯০৪) =মুহম্মদ হামিদ আলি
১১। পৃথ্বীরাজ (১৯১৫)=যোগীন্দ্রনাথ বসু
১২। শিবাজী (১৯২১) = যোগীন্দ্রনাথ বসু
১২। আনন্দ চন্দ্র মিত্র= হেলেনা কাব্য



পৃথিবীতে প্রধান সাহিত্যিক মহাকাব্য বা জাত মহাকাব্য ৪ টি?

১। বাল্মীকির রামায়ন
২। বেদব্যাস বা ব্যাসদেব এর মহাভারত
৩. হোমারের ইলিয়াড
৪. হোমারের ওডেসি



মহাকাব্য সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

১। বাংলা সাহিত্যে ত্রয়ী মহাকাব্য কী?
উত্তরঃ- নবীন চন্দ্র সেনের রৈবতক, কুরুক্ষেত্র এবং প্রভাস-এই তিন মহাকাব্যকে একত্রে ত্রয়ী মহাকাব্য বলে।
২। বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য কোনটি?
উত্তরঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য।
৩। মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনীর উৎস কোনটি?
উত্তরঃ- রামায়ণ
৪। মেঘনাদবধ কাব্য কোন ছন্দে রচিত?
উত্তরঃ- অমিত্রাক্ষর ছন্দে
৫। শাহনামা মহাকাব্য কোন ভাষায় রচিত?
উত্তরঃ- ফারসি ভাষায়
৬। শাহনামা মহাকাব্য বাংলা ভাষায় কে অনুবাদ করেন?
উত্তরঃ- মোজাম্মেল হক
৭। মহাশ্মশান নামক মহাকাব্যটির কাহিনী কোথা থেকে নেয়া?
উত্তরঃ- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
৮। মহাকাব্য কয় প্রকার?
উত্তরঃ- ২ প্রকার। জাত মহাকাব্য ও সাহিত্যিক মহাকাব্য
৯। শাহানামা কোথাকার মহাকাব্য?
উত্তরঃ পারস্য
১০। ’প্যারাডাইস লস্ট’ মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ- জন মিল্টন
১১। মেঘনাদবধ কাব্যে সর্গ সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ- ৯টি
১২। কোন মহিলা প্রথম রামায়ণে রচনা করেন?
উত্তরঃ- চন্দ্রাবতী
১৩। বিভীষণের স্ত্রীর নাম কি?
উত্তরঃ- সরমা
১৪। মহাভারতের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ- ব্যাসদেব বা বেদব্যাস
১৫। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি কে?
উত্তরঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১৬। শাহনামা কার রচনা?
উত্তরঃ- মহাকবি ফেরদৌসী

পোস্টটি সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে তা জানাতে ভূলবেন না। মতামত জানাতে হলে নিচে কমেন্ট করুন।

বাংলা ভাষায় রচিত বিখ্যাত নাটক সমূহ।

বাংলা পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা। এ ভাষাকে সমৃদ্ধ করার পেছনে বহু কবি, সাহিত্যিকগণ কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। আজকের পর্বে আমরা জনবো-বাংলা ভাষায় রচিত কতিপয় বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক এবং তাদের রচয়িতার নাম।

image of bangla natok



ক্রমিকঐতিহাসিক নাটকরচয়িতা
১। কৃষ্ঞকুমারীমাইকেল মধুসুদন দত্ত
২। প্রায়শ্চিত্তরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩। রক্তাক্ত প্রান্তরমুনীর চৌধুরী
৪। সিরাজউদ্দৌলাগিরীশচন্দ্র ঘোষ
৫। শাজাহানদ্বিজেন্দ্রলাল রায়
৬। বাংলার মসনদক্ষিরোদ প্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
৭। টিপু সুলতানমহেন্দ্র গুপ্ত
৮। নাদির শাহআকবর হোসেন
৯। সিরাজউদ্দৌলাশচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
১০। কামাল পাশাইব্রাহীম খাঁ
১১। স্পেন বিজয়ী মুসাইব্রাহীম খলিল
১২। সফররাজ খাঁশাহাদাৎ হোসেন
১৩। অগ্নিগিরিআসকার ইবনে শাইখ
   
   

 

বাংলা ভাষায় রচিত কতিপয় বিখ্যাত সামাজিক নাটক এবং তাদের রচয়িতার নাম।


ক্রমিকসামাজিক নাটকরচয়িতা
১। নীলদর্পনদীনবন্ধু মিত্র
২। কুলীনকুল সর্বস্বরাম নারায়ন তর্করত্ন
৩। বুঁড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁমাইকেল মধুসুদন দত্ত
৪। জমিদার দর্পণমীর মোশারফ হোসেন
৫। সধবার একাদশীদীনবন্ধু মিত্র
৬। মানচিত্রআনিস চৌধুরী
৭। বহ্নিপীরসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
৮। চিঠিমুনীর চৌধুরী
৯। চিরকুমার সভারবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০। পুনর্জন্মদ্বিজেন্দ্রলাল রায়
১১। অলীক বাবুজ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২। প্রফুল্লগিরিশচন্দ্র ঘোষ
১৩। ব্যপিকা বিদায়অমৃত লাল বসু
১৪। নবান্নবিজন ভট্টাচার্য
১৫। নয়া খান্দাননুরুল মোমেন
১৬। প্রচ্ছদপটআসকার ইবনে শাইখ
১৭। ছেঁড়াতার তুলসী লাহিড়ী
   

 

বাংলা ভাষায় রচিত / অনুদিত কতিপয় বিখ্যাত ট্রাজেডি নাটক এবং তাদের রচয়িতার নাম।


ক্রমিকট্রাজেডি নাটকরচয়িতা
১। কৃষ্ঞকুমারীমাইকেল মধুসুদন দত্ত
২। ম্যাকবেথশেক্সপিয়র
৩। কিং লেয়ার শেক্সপিয়র
৪। ওথেলোশেক্সপিয়র
৫। হেমলেটশেক্সপিয়র
৬। জুলিও সিজারশেক্সপিয়র
৭। রাজা ও রানীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৮। সীগলচেকভ
৯। হেনরী দি ফোর্থপিরানদেল্লো
১০। এন্টিগোনী সফোক্লেস
   
   

আশা করি পোস্টটি যারা বিসিএস বা অন্যান্য চাকরীর  জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিংবা ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়াশুনা করছেন তাদের জন্য উপকারে আসবে। ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করুন।

কবি সাহিত্যিকদের উপাধি সমূহ।

image of the title of poets



যে সব কবি সাহিত্যিকগণ আমাদের বাংলা ভাষাকে লেখনি শক্তির মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন তাদেরকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। আজকের পর্বে আমরা জানবো বাংলা ভাষায় বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকদের উপাধিসমূহ।


ক্রমিককবি/ সাহিত্যিকদের নামউপাধী
১।কাজী নজরুল ইসলামবিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি
২।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবিশ্বকবি, নাইট
৩।জসীমউদ্দীনপল্লী কবি
৪।গোলাম মোস্তফাকাব্য সুধাকর
৫।ফররুখ আহমমমুসলিম রেঁনেসার কবি
৬।বঙ্কিমচন্দ্র টট্টোপধ্যায়সাহিত্য সম্রাট
৭।ঈশ্বর চন্দ্রবিদ্যাসাগর, গদ্যের জনক
৮।হেমচন্দ্রবাংলার মিলটন
৯।ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তযুগ সন্ধিক্ষণের কবি
১০।ভারত চন্দ্ররায় গুনাকর
১১।জীবনানন্দ দাসরূপসী বাংলার কবি, তিমির হননের কবি
১২।মালাধর বসুগুনরাজ খাঁন
১৩।মুকুন্দরামকবি কঙ্কন
১৪।বাহারাম খানদৌলত উজির
১৫।মধুসূদন দত্তবাংলা সনেটের জনক
১৬।বিহারীলাল চক্রবর্তীভোরের পাখি
১৭।আব্দুল করিমসাহিত্য বিশারদ
১৮।সত্যেন্দ্রনাথ দত্তছন্দের জাদুকর
১৯।সমরসেননাগরিক কবি
২০।শ্রীকর নন্দীকবিন্দ্র পরমেশ্বর
২১।বিদ্যাপতিমিথিলার কবি, পদাবলীর কবি
২২।মজিবর রহমানসাহিত্য রত্ন
২৩।যতীন্দ্রনাথ বাগচীদুঃখবাদের কবি
২৪।সৈয়দ আলাওলমহাকবি, কবিগুরু
২৫।সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীস্বপ্নাতুর কবি
২৬।বেগম রোকেয়অমুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত
২৭। গোবিন্দ দাসস্বভাব কবি
 ২৮।ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহভাষাবিজ্ঞানী
 ২৯। মুকুন্দরাম দাসচারণ কবি
 ৩০।রাম নারায়নতর্করত্ন
 ৩১।সুধীন্দ্রনাথ দত্তক্লাসিক কবি
 ৩২।বিষ্ঞুদেমার্কসবাদী কবি
 ৩৩। সুকান্ত ভট্টাচর্যকিশোর কবি
 ৩৪।মোজাম্মেল হকশান্তিপুরের কবি
 ৩৫।আব্দুল কাদিরছান্দসিক কবি
 ৩৬।শরৎচন্দ্র টট্টোপধ্যায়অপরাজেয় কথাশিল্পী
 ৩৭। সুভাষ মুখোপধ্যায়পদাতিকের কবি
 ৩৮।নুরুন্নেসা খাতুনসাহিত্য স্বরস্বতী, বিদ্যা বিনোদনী
 ৩৯।বিনয়কৃষ্ঞ মুখোপধ্যায়যাযাবর
 ৪০।দীনবন্ধু মিত্ররায় বাহাদুর



আশা করি পোস্টটি যারা বিসিএস সহ অন্যান্য চাকরী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা নেবেন তাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কিংবা নিবন্ধন পরীক্ষায় কাজে আসবে।

বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম।

image of the poets disguised names


বাংলা ভাষা পৃথিবীর অন্যতম সেরা ভাষা। এই ভাষাকে বিশ্ব দরবারে অন্যতম শ্রেষ্ট ভাষা হিসেবে পরিচিতির পেছনে রয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জসীমউদ্দিন, ডঃ মোঃ শহীদুল্লাহ সহ অনেক কবি-সাহিত্যিকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা। কিন্তু জেনে বিস্মিত হবেন যে, এই সব কবি-সাহিত্যিকরা কিন্তু সব সময় তাদের আসল নামে লিখতেন না। কখনও কখনও তাদের নামের পরিবর্তে ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।



আমরা আজকে জানবো কোন কোন কবি-সাহিত্যিক কোন কোন ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
ক্রমিক নংকবি-সাহিত্যিকদের নামযে ছদ্মনামে লিখতেন
১।মীর মোশাররফ হোসেনগাজী মিয়া
২।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরভানুসিংহ ঠাকুর
৩।প্রমথ চৌধুরীবীরবল
৪।প্যারীচাঁদ মিত্রটেকচাঁদ ঠাকুর
৫।অনন্ত বড়ুবড়ু চন্ডীদাস
৬।কাজেম আল কোরায়েশীকায়কোবাদ
৭।কালী প্রসন্ন সিংহহুতোম পেঁচা
৮।নারায়ন গঙ্গোপধ্যায়সুনন্দ
৯।মধুসূদন মজুমদারদৃষ্টিহীন
১০।মোহিত লাল মজুমদারসত্যসুন্দর দাস
১১।কালীকানন্দঅবধুত
১২।চারুচন্দ্র মুখোপধ্যপয়জরাসন্ধ
১৩।নীহাররঞ্জন গুপ্তবানভট্ট
১৪।ডঃ মনিরুজ্জামানহায়াৎ মাহমুদ
১৫।সমরেশ বসুকালকুট
১৬।রাজশেখর বসুপরশুরাম
১৭।শেখ আজিজুর রহমানশওকত ওসমান
১৮।সুনীল গঙ্গোপধ্যায়নীল লোহিত
১৯।অচিন্ত কুমার সেনগুপ্তনীহারিকা দেবী
২০।বলাইচাঁদ মুখোপধ্যায়বনফুল

  
২১।বিমল ঘোষমৌমাছি
২২।সুবোধ ষোষসুপান্থ
২৩।অখিল নিয়োগীস্বপণবুড়ো
২৪।শ্রীপান্থনিখিল সরকার
২৫।বিনয় মুখোপধ্যায়যাযাবর
২৬।ললিত মুখোপধ্যায়বিজ্ঞানভিক্ষু
২৭।সত্যেন্দ্রনাথ দত্তনবকুমার কবিরত্ন
২৮।প্রফুল্ল চন্দ্র লাহিড়ীকাফি খাঁ
২৯।সৈয়দ মুজতবা আলীওমর খৈয়াম
৩০। শরৎ চন্দ্র চট্টোপধ্যায় অনিলা দেবী
৩১।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়কমলাকান্ত
৩২।চাণক্য সেনভবানী সেনগুপ্ত
৩৩।দেবেশ রায়বেদুইন
৩৪।গৌর কিশোর ঘোষরূপদর্শী
৩৫।জ্যোর্তিময় ঘোষভাস্কর
৩৬।দীপ্তেন্দ্র সান্যালনীলকণ্ঠ
৩৭।হরিনাথ মজুমদারকাঙাল হরিনাথ
৩৮।রোকনুজ্জামান খানদাদাভাই
৩৯।মইনুদ্দিন আহমেদসেলিম আল দীন
৪০।বিভূতিভূষণ বন্দোপধ্যায়ক্বচিতপ্রৌঢ়
৪১।প্রেমেন্দ্র মিত্রকৃত্তিবাস ভন্দ্র
৪২।প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপধ্যায়মানিক বন্দ্যোপধ্যায়
৪৩।তারা শংকর বন্দ্যোপধ্যায়হাবু শর্মা
৪৪।অন্নদাশংকর রায়লীলাময়
৪৫।জসীম উদ্দিনজমীরউদ্দিন মোল্যা
৪৬।মধুসূদন দত্তএ নেটিভ
৪৭।আবুল ফজলশমসের উল আজাদ
৪৮।সোমেন চন্দ্রইন্দ্রোকুমার সেন
৪৯।সতিনাথ ভাদুড়িইন্দ্রকুমার সেন
৫০।মহাস্বেতা দেবীসুমিত্রা দেবী



তো বন্ধুরা পোস্ট পড়ে ভালো লাগলে অন্যকে জানিয়ে দিন। তার জন্য পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন।

বাংলা লিপি,ভাষা এবং বাংলা সাহিত্যের যুগ।

বাংলা লিপির ইতিকথা।

১। বাংলা লিপির উৎস কী?  
 উত্তরঃ- ব্রাহ্মী লিপি।
২। ভারতীয় লিপিমালার উদ্ভব হয় কোথা থেকে?  
উত্তরঃ- ভারতীয় চিত্র লিপি হতে।
৩। কোন যুগে বাংলা লিপি ও অক্ষরের গঠনকার্য শুরু হয়? 
 উত্তরঃ-   সেন যুগে।
৪। ভারতীয় লিপিমালার প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
 উত্তরঃ- খরোষ্ঠী এবং ব্রাহ্মী লিপি।
৫। বাংলা লিপি স্থায়ীরূপ লাভ করে কোন যুগে?
উত্তরঃ- পাঠান যুগে।
৬। ব্রাহ্মী লিপির বিবর্তিত রূপ কী কী? 
উত্তরঃ- পশ্চিমা লিপি, মধ্য ভারতীয় লিপি এবং পূর্বী লিপি।
৭। বিবর্তনের ধারায় কোন বিশেষ লিপি হতে বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে?
উত্তরঃ- কুটীল লিপি থেকে।
৮। প্রথম বাংলা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
উত্তরঃ-  শ্রীরামপুর মিশন এটি ১৮০০ খ্রিঃ।
৯। সম্রাট অশোকের অনুশাসনগুলো উৎকীর্ণ কোন লিপিতে?
উত্তরঃ-ব্রাহ্মী লিপিতে।
১০। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন লেখ্য লিপি কোনটি?
উত্তরঃ- অশোকের লিপি।
১১। আর্যদের আগমনের পূর্বে এদেশে কারা ছিল?
উত্তরঃ- অনার্য ভাষাভাষী।
১২। বাংলাদেশে আর্যদের আসার আগে এদেশের লোকেরা কোন ভাষায় কথা বলতো?
উত্তরঃ-কোল বা অস্ট্রিক ভাষায়।

বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

১। বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোথা থেকে?
উত্তরঃ- প্রাকৃত ভাষা  থেকে।
২। প্রাকৃত ভাষার অর্থ কী?
উত্তরঃ- জনগণের ভাষা।
৩। ডঃ মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয় কোন শতকে?
উত্তরঃ- ৭ম শতকে।
৪। বাংলা ভাষার মূল ভাষাগোষ্ঠী কারা?
উত্তরঃ- ইন্দো ইউরোপীয়।
৫। ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা কোনটি?
উত্তরঃ- আর্য শাখা।
৬। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার স্তর কয়টি?
উত্তরঃ- তিনটি- বৈদিক, সাংস্কৃতি এবং বৌদ্ধ সংস্কৃত ভাষা।
৭। আর্যগণের বেদ সংহিতার ভাষা কী ছিল?
 উত্তরঃ- বৈদিক ভাষা।
৮।বিখ্যাত ব্যকরণবিদ পাণিণি কোন ভাষার ছিলেন?
 উত্তরঃ- বৈদিক ভাষার।
৯। ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোথা থেকে?
উত্তরঃ- গৌড়ি প্রাকৃত থেকে।
১০। ডঃ সুনিতী কুমার চট্টোপধ্যায় এর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোথা থেকে?
 উত্তরঃ-  মাগধি অপভ্রংশ হতে।
১১। আর্য জাতি কোথা থেকে আসে?
উত্তরঃ- ইরান থেকে।
১২। বুদ্ধদেবের নির্দেশে যে ভাষা প্রতিষ্ঠা পায়?
উত্তরঃ- পালি।


বাংলা সাহিত্যের যুগ।

১। বাংলা সাহিত্যের যুগকে কয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে?
 উত্তরঃ- ৩টি।
২। বাংলা সাহিত্যের যুগ কী কী?
 উত্তরঃ- আদি যুগ( ৬৫০-১২০০ খ্রিঃ), মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রিঃ) এবং আধুনিক যুগ ( ১৮০১ থেকে বর্তমান)।
৩। বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের (৬৫০-১২০০) নিদর্শণ কোনটি?
উত্তরঃ- চর্যাপদ।
৪। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয় কখন থেকে?
 উত্তরঃ- ১৮০১ খ্রিঃ থেকে।
৫। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ কোনটি?
উত্তরঃ- ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিঃ পর্যন্ত।
৬। বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ কোনটি?
উত্তরঃ-১২০০-১৩৫০ পর্যন্ত মোট এই ১৫০ বছর।
৭। ১২০০-১৩৫০ পর্যন্ত সময়কে কেন অন্ধকার যুগ বলা হয়?
উত্তরঃ- এই যুগে কোন সাহিত্য পাওয়া যায়নি তাই এই যুগকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে।
৮।বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শণ কোনটি?
উত্তরঃ- বড়ু চন্ডিদাশের “শ্রীকৃষ্ঞকীর্তন কাব্য।
৯। বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি কে?
উত্তরঃ - বড়ু চন্ডিদাশ।
১০। চর্যাপদ কী?
উত্তরঃ- বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন ভজন। এটি একটি ধর্ম সংকলন।
১১। চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
 উত্তরঃ- ১৯০৭ সালে।
১২। চর্যাপদ কে কোথা থেকে আবিষ্কার করেন?
উত্তরঃ- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে আবিষ্কার করেন।
১৩। চর্যাপদে মোট কতটি পদ ছিল?
উত্তরঃ-  ৫১ টি।  তবে উদ্ধার করা যায় মোট সাড়ে ছেচল্লিশ টি।
১৪। সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ কে লিখেছেন?
 উত্তরঃ- কাহ্নপা। তার মোট রচিত ১২ টি চর্যাপদ পাওয়া যায়।
১৫। বাংলা সাহিত্যের কৃষ্ঞ গহবর কোনটি?
 উত্তরঃ- ১২০০ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত এই ১৫০ বছর।

Jan 27, 2020

সকল কারকে শূণ্য বিভক্তির প্রয়োগ।

কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারক বিভক্তি পড়তে হয়না এমন ছাত্রকে পাওয়া যাবেন। কিন্তু কারক বিভক্তি মনে রাখা অনেকেরই কাছে জটিল মনে হয়। ইংরেজি গ্রামারের চেয়ে বাংলা ব্যাকরণ বেশ কঠিণ। মনে রাখার জন্য আমাদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

কারক ৬ প্রকার।    (ক) কর্তৃকারক  (খ) কর্মকারক   (গ) করণ কারক  (ঘ) সম্প্রদান কারক (ঙ) অপাদান কারক (চ) অধিকরণ কারক

কারক ও বিভক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন।

শূণ্য বিভক্তি হচ্ছে- অ, (০) শূণ্য।

আসুন সহজেই জেনে  সকল কারকে শূণ্য বিভক্তি ( অ, শূণ্য) মনে রাখার সহজ টেকনিক। নিচের বাক্যটি মনে রাখুন।
অপু, তাজ বস।

অ= অমল বই পড়ে।
( কে বই পড়ে? অমল। এখানে অমল কর্তৃকারক। অমল এর শেষে শূণ্য বিভক্তি অর্থাৱ অন্যকোন বিভক্তি যোগ হয়নি।)
পু= পুলিশ ডাকো।
( কাকে ডাকো? পুলিশ। এখানে পুলিশ কর্মকারক। পুলিশ এর শেষে শূণ্য বিভক্তি অর্থাৱ অন্য কোন বিভক্তি যোগ হয়নি।)
তা= তাস খেলা ভালো নয়।
(দ্বারা দিয়া বুঝালে করণকারক হয়। এখানে তাস করণকারক। তাস এর শেষে শূণ্য বিভক্তি অর্থাৱ অন্য কোন বিভক্তি যোগ হয়নি।)
= জীর্ণ দেখে পোষাক দাও।
ছেড়া কাপড় পরিহিত লোক দেখলে কাপড় দাও। সাধারণত মানুষ দান করে কোন প্রাপ্তির আশা ছাড়াই। দান বুঝালে সম্প্রদান কারক হয়। জীর্ণ এর শেষে শূণ্য অর্থাৎ অন্য কোন বিভক্তি বসেনি।
= বাবা ভয় দেখান।
ভীত, উৎপন্ন, গৃহীত বুঝালে অপাদান কারক হয়। বাবা একটি মৌলিক শব্দ। এর শেষে অন্য কোন বিভক্তি যোগ হয়নি। সুতারং এটি অপাদান কারকে শূণ্য বিভক্তি।
= সকাল বেলা পাখি ডাকে।
কোথায়, বা কখন দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে অধিকরণ কারক হয়। অর্থাৎ স্থান বা কাল বুঝালে অধিকরণ কারক হয়। আর সকাল শব্দের শেষে অন্য কোন বিভক্তি যোগ হয়নি। তাই এটি অধিকরণ কারকে শুণ্য বিভক্তি।
কারক বিভক্তি প্রায়ই বিভিন্ন পরীক্ষা এমনকি বিসিএস সহ অন্যান্য চাকরী পরীক্ষায় আসে। সুতারং পোস্টটি ভালো করে পড়ুন। আশা করি কারক সম্পর্কে আপনার জ্ঞানের পরিধিকে বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

সকল কারকে সপ্তমী (৭মী) বিভক্তির প্রয়োগ।

কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারক বিভক্তি পড়তে হয়না এমন ছাত্রকে পাওয়া যাবেন। কিন্তু কারক বিভক্তি মনে রাখা অনেকেরই কাছে জটিল মনে হয়। ইংরেজি গ্রামারের চেয়ে বাংলা ব্যাকরণ বেশ কঠিণ। মনে রাখার জন্য আমাদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

সকল কারকে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ


কারক ৬ প্রকার।    (ক) কর্তৃকারক  (খ) কর্মকারক   (গ) করণ কারক  (ঘ) সম্প্রদান কারক (ঙ) অপাদান কারক (চ) অধিকরণ কারক

কারক ও বিভক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন।

সপ্তমী  বিভক্তি হচ্ছে- এ, য় ,তে।
আসুন সহজেই জেনে  সকল কারকে সপ্তমী বিভক্তি ( এ, য়, তে) মনে রাখার সহজ টেকনিক। নিচের বাক্যটি মনে রাখুন।
পাগুটা দীপতি।
পা= পাগলে কিনা বলে।
( পাগলে কর্তৃকারকে সপ্তমী। এখানে পাগলের শেষে এ বিভক্তি যোগহয়েছে। )
গু= গুরুজনে সালাম দাও।
(কাকে সালাম দাও? গুরুজনে। এখানে গুরুজন কর্মকারক। আর এর শেষে যোগ হয়েছে এ বিভক্তি।)
টা= টাকায় কিনা হয়।
(টাকার দ্বারা কিনা হয়। এখানে টাকা হচ্ছে করণ কারক । আর এর শেয়ে য় যোগ হয়েছে। )
দী= দীনে দয়া করো।
( দয়া করে মানুষ নিৰস্বার্থভাবে। নিৰস্বার্থ বুঝালে সম্প্রদান কারক হয়। আর দীন এর শেষে যোগ হয়েছে এ বিভক্তি।)
প= পরাজয়ে ডরেনা বীর।
(ভীত, উৱপন্ন, গৃহীত বুঝালে অপাদান কারক হয়। আর পরাজয় এর শেষে যোগ হয়েছে এ বিভক্তি।)
তি= তিলে তৈল আছে।
কোথায়,কখন বুঝালে অধিকরণ কারক হয়।কোথায় তৈল আছে? তিলে। সুতারং তিল অধিকরণ কারক। আর এর শেষে যোগ হয়েছে এ বিভক্তি।)
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। কোন মতামত থাকলে তা জানান।

একটি স্বার্থক বাক্যের কয়টি গুণ থাকে?

একটি স্বার্থক বাক্যের কী কী গুণ থাকতে পারে?

যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।অর্থাৎ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এক বা একাধিক শব্দ সুশৃঙ্খলভাবে বসে যদি একটি অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে বাক্য বলে।
বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক থাকা আবশ্যক। ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের তিনটি গুন থাকা আবশ্যক।
১। আকাঙক্ষা:- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে আকাঙক্ষা বলে। যেমন-সূর্য পূর্বদিকে-বললে বাক্যটি অসম্পূর্ণ। এটি মনের ভাব সম্পূর্ণ করতে পারেনি।এর পরে আরো কিছু কথা বা শব্দ শোনার ইচ্ছা হয়।যখন- সূর্য পূর্বদিকে ওঠে-বললে বাক্যটি পূর্ণতা পাবে। তাই একটি পদের পরে আরেকটি পদ শোনার ইচ্ছাকে আকাঙক্ষা বলে।
image of qualities of sentence
২। আসত্তি:- একটি বাক্যের শব্দগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশে বাধাগ্রস্থ না হয়। অর্থাৎ বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন- ছাত্র দশম একজন আমি শ্রেণির। এখানে শব্দগুলো ঠিকভাবে সাজানো না হওয়ায় মনোভাব যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই একটি বাক্য নয়।ঠিক বাক্যটি হবে-আমি একজন দশম শ্রেণির ছাত্র।এখন পদগুলো সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত হয়েছে তাই এটি তাই এ বাক্যে আসত্তি নামক গুণটি বজায় রয়েছে।
৩। যোগ্যতা:-বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। অর্থাৎ বাক্যের পদগুলোর শব্দগত এবং অর্থগত মিল থাকার নামই হচ্ছে যোগ্যতা।
যেমন- আমার মন মন্দিরে আজ আশার বীজ উপ্ত হলো।কারো মনমন্দিরে আশার বীজ বপন করা হয়না। বীজ বপন করা হয় ক্ষেতে বা মাঠে। মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় পূজা পালন করতে যান।

কোন কোন কারণে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়?

(ক) দুর্বোধ্যতা: অপ্রচলিত এবং দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য যোগ্যতা হারায়। যেমন:-তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছ। এখানে প্রপঞ্চ চাতুরী বা  অর্থ ব্যবহৃত হলেও বাংলায় প্রপঞ্চ শব্দটি অপ্রচলিত।
(খ) উপমার ভুল প্রয়োগ: ঠিকভাবে উপমার প্রয়োগ না করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন:- আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল।এই বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ বীজ ক্ষেতে বপন করা হয়, মন্দিরে নয়। বাক্যটি এরকম হতো- আমার হৃদয় -ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।
(গ) বাহুল্য-দোষ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন:- দেশের সব আলেমগণই আমাদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন।'আলেমগণ' বহুবচন হওয়ায় এর সাথে 'সব' ব্যবহার করায় বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ ঘটেছে ।আর এতে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।
(ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন: বাগধারা বাংলা ভাষার একটি ঐতিহ্য। তাই বাগধারার শব্দ পরিবর্তনে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।যেমন:- 'অরণ্যে রোদন' না বলে 'বনে ক্রন্দন' কিংবা 'ঘোড়ার ডিম' না বলে 'ঘোটকের ডিম্ব' ব্যবহার করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারাবে।
(ঙ) গুরুচণ্ডালী দোষ: তৱসম শব্দের সাথে দেশী শব্দের ব্যবহারকে গুরু চণ্ডালী দোষের সৃষ্টি করে। আর এতে বাক্য যোগ্যতা হারায়। যেমন; 'গরুর গাড়ি' না বলে 'গরুর শকট', 'শবদাহ' না বলে 'শবপোড়া' কিংবা 'মরাপোড়া' এর পরিবর্তে 'মড়াদাহ' ব্যবহার করলে বাক্য যোগ্যতা হারাবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৈবক্তিক প্রশ্ন:-

১। ভাষার বিচারে বাক্যের গুন কয়টি?
(ক) ২টি                                                         (খ) ৩টি  (উত্তর)     
(গ) ৪টি                                                          (ঘ)  ৫টি
২। কোনটি বাক্যের গুন নয়?
(ক) আকাঙক্ষা                                                 (খ) আসক্তি (উত্তর)  
  (গ) আসত্তি                                                   (ঘ) যোগত্যা
৩। 'চন্দ্র পৃথিবীর চারিদিকে'- বললে বাক্যের কোন গুনটির অভাববোধ হয়?
(ক) আকাঙক্ষা (উত্তর)                                      (খ) যোগ্যতা
(গ) আসত্তি                                                     (ঘ) কোনটিই নয়
৪। 'কাল বিতরণী হবে উৱসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত'- এ বাক্য তার কোন গুনটি হারিয়েছে?
(ক) আকাঙক্ষা                                                 (খ) যোগ্যতা
(গ) আসত্তি    (উত্তর)                                       (ঘ) কোনটিই নয়
৫। 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে'। এক বাক্য তার কোন গুনটি হারিয়েছে?
(ক) আকাঙক্ষা                                                (খ) যোগ্যতা (উত্তর)
(গ) আসত্তি                                                    (ঘ) কোনটিই নয়
৬। দেশের সব আলেমগণই আমাদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন।এ বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
(ক) আকাঙক্ষা                                               (খ) দুর্বোধ্যতা
(গ) বাহুল্য  (উত্তর)                                        (ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ
৭। 'শবপোড়া' শব্দটির কী দোষ দেখা যায়?
(ক) গুরুচণ্ডালী  (উত্তর)                                  (খ) আকাঙক্ষার ভুল প্রয়োগ
(গ) উপমা ভুল প্রয়োগ                                    (ঘ) দুর্বোধ্যতা
৮। বাক্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে কী বলে?
(ক) আকাঙক্ষা   (উত্তর)                                  (খ) যোগ্যতা
(গ) আসত্তি                                                   (ঘ) কোনটিই নয়
৯। কোনটি বাগধারার পরিবর্তনজনিত ভুলের উদাহরণ?
(ক) ঘোড়ার ডিম                                            (খ) গৌরীসেনের টাকা
(গ) গোড়ায় গলদ                                           (ঘ) ঘোটকের ডিম্ব  (উত্তর) 
১০। কোন বাক্যাংশটি গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত?
(ক) ঘোড়ার গাড়ি                                          (খ) শবদাহ
(গ) ঘোটকের গাড়ি  (উত্তর)                            (ঘ) মড়াপোড়া
নিয়মিত চর্চা করুন। আর লেখায় কোন ভুল থাকলে জানাতে ভুলবেন না।

একটি বাক্যের মাধ্যমে সকল কারক এর প্রয়োগ।

কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারক বিভক্তি পড়তে হয়না এমন ছাত্রকে পাওয়া যাবেন। কিন্তু কারক বিভক্তি মনে রাখা অনেকেরই কাছে জটিল মনে হয়। ইংরেজি গ্রামারের চেয়ে বাংলা ব্যাকরণ বেশ কঠিণ। আজকের এই পর্বে আমরা জানবো একটি বাক্যের মাধ্যমে সকল কারকের পরিচিতি।

একটি বাক্যে কারক ও বিভক্তি


বেগম সাহেবা প্রতিদিন ড্রাম থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন।
এখানে
১। বেগম সাহেবা                 কর্তৃকারক
২। চাল                          কর্মকারক
৩। হাতে                         করণ কারক
৪। গরিবদের                     সম্প্রদান কারক
৫। ড্রাম                          অপাদান কারক
৬। প্রতিদিন                     অধিকরণ কারক



কে বা কারা দ্বারা প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে কর্তৃকারক। কে প্রতিদিন ড্রাম থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন? উত্তর হবে- বেগম সাহেবা।

কি বা কাকে দ্বারা প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে কর্মকারক। বেগম সাহেবা প্রতিদিন ড্রাম থেকে নিজ হাতে গরিবদের কি দিতেন? উত্তর হবে- চাল।

কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পেলে সেটি করণ কারক। বেগম সাহেবা প্রতিদিন ড্রাম থেকে গরিবদের চাল দিতেন কিসের দ্বারা? উত্তর হবে-হাত দ্বারা বা হাত দিয়ে।

কর্মকারকের মত কাকে দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া যাবে। তবে এখানে স্বত্ব থাকবেনা। যেমন মানুষ ভিক্ষারীকে দান করে কোন স্বত্ব ছাড়াই যাকে বলে নি:শর্ত ভাবে। আবার গুরুজনকে মানুষ সম্মান করে কোন স্বার্থ ছাড়াই। গরীবদের মানুষ সাহায্য করে তার কাছ থেকে কোন স্বার্থ পাওয়ার আশা ছাড়াই। বেগম সাহেবা প্রতিদিন ড্রাম থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন। কাদের চাল দিতেন? উত্তর হচ্চে- গরীবদের।

হতে, থেকে বুঝালে অপাদান কারক হবে। বেগম সাহেবা প্রতিদিন নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন কোথা থেকে বা কোথা হতে? উত্তর হবে-ড্রাম থেকে।

ক্রিয়ার সময় বা স্থানকে অধিকরণ কারক বলে। কোথায়, কথন দ্বারা প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে সেটি অধিকরণ কারক। বেগম সাহেবা ড্রাম থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন কথন? উত্তর হবে-প্রতিদিন।

কারক ও বিভক্তি সম্পর্কে আমাদের কারক ও বিভক্তি মনে রাখার কৌশল পোস্ট পড়ুন।

কারক ও বিভক্তি মনে রাখার কৌশল।

কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারক বিভক্তি পড়তে হয়না এমন ছাত্রকে পাওয়া যাবেন। কিন্তু কারক বিভক্তি মনে রাখা অনেকেরই কাছে জটিল মনে হয়। ইংরেজি গ্রামারের চেয়ে বাংলা ব্যাকরণ বেশ কঠিণ। আসুন সহজেই জেনে নেই কারক ও বিভক্তি মনে রাখার সহজ টেকনিক।
কারক ছয় প্রকার।
১।কর্তৃকারক:যে কাজ করে সেই কর্তা বা কর্তকারক।
যেমন: আমি ভাত খাই।
বালকেরা মাছে ফুটবল খেলছে।
এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে 'কে' বা 'কারা' দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পেলে সেই কর্তা বা কর্তৃকারক।
কে ভাত খায়? উত্তর হচ্ছে আমি
কারা ফুটবল খেলছে ? উত্তর হচ্ছে-বালকেরা।
তাহলে আমি এবং বালকেরা হচ্ছে কর্তৃকারক।
২। কর্মকারক: কর্তা যে কাজ করে সেটাই কর্ম বা কর্মকারক।
যেমন: আমি ভাত খাই।
হাবিব সোহলকে মেরেছে।
এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে 'কি' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পেলে সেই কর্ম বা কর্মকারক।
আমি কি খাই? উত্তর হচ্ছে-ভাত।
হাবিব কাকে মেরেছে? উত্তর হচ্ছে-সোহেলকে।

কারক ও বিভক্তি
৩। করণ কারক: ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র বা উপকরণ বুঝায়।
নীরা কলম দিয়ে লেখে।
সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়।
এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পেলে সেই করণ কারক।
নীরা কীসের দ্বারা লেখে? উত্তর হচ্ছে-কলম ।
কী উপায়ে বা কোন উপায়ে কীর্তিমান হওয়া যায়? উত্তর হচ্ছে-সাধনায়।
৪। সম্প্রদান কারক: স্বত্ব ত্যাগ করে দান বা অর্চনা বুঝালে সম্প্রদান কারক। স্বত্ব ত্যাগ না করলে কর্মকারক।
ভিক্ষারীকে ভিক্ষা দাও।
গুরুজনে কর নতি।
মনে রাখার উপায় হচ্ছে-কর্মকারকের মত কাকে দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া যাবে।
তবে এখানে স্বত্ব থাকবেনা। যেমন মানুষ ভিক্ষারীকে দান করে কোন স্বত্ব ছাড়াই যাকে বলে নি:শর্ত ভাবে। আবার গুরুজনকে মানুষ সম্মান করে কোন স্বার্থ ছাড়াই।
৫। অপাদান কারক: হতে, থেকে বুঝালে অপাদান কারক হবে।
গাছ থেকে পাতা পড়ে।
পাপে বিরত হও।
এখাছে কোথা থেকে পাতা পড়ে? উত্তর হচ্ছে-গাছ ।
কি হতে বিরত হও? উত্তর হচ্ছে - পাপ ।
৬। অধিকরণ কারক:ক্রিয়ার সময় বা স্থানকে অধিকরণ কারক বলে।
আমরা রোজ স্কুলে যাই
প্রভাতে সূর্য ওঠে।
মনে রাখার উপায় হচ্ছে-কোথায় এবং কথন দিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া যাবে।
আমরা রোজ কোথায় যাই? উত্তর হচ্ছে-স্কুলে। আর স্কুল একটি স্থান।
কখন সূর্য ওঠে? উত্তর হচ্ছে-প্রভাতে। আর প্রভাত একটি কাল বা সময়।

বিভক্তি মনে রাখার উপায়:

বাংলায় বিভক্তি সাত প্রকার।
প্রথমা বিভক্তি: এবং
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে এবং  রে
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া এবং কর্তৃক
চতুথী বিভক্তি: দ্বিতীয়া বিভক্তির মত তবে নিমিত্ত বা জন্য বুঝাবে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হতে, থেকে এবং চেয়ে
ষষ্ঠী বিভক্তি: এবং এর
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য় ,তে থাকে।
কারক-বিভক্তির উপরের টেকনিক গুলো মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করুন। এছাড়া কারক ও বিভক্তির অন্যান্য পোস্ট গুলো পড়ুন বিস্তারিত জানার জন্য।

কি এবং কী এর পার্থক্য।

ki and kee


বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এই বাংলা ভাষার রয়েছে বিশ্বজুড়ে অনেক কদর। বাংলা ভাষার ব্যকরণও অতি উন্নত মানের।  অনেক কবি সাহিত্যিক এবং ভাষা বিজ্ঞানীরা করে গেছের বাংলা ভাষার ব্যকরণকে সমৃদ্ধশালী। কোন ভাষাকে ভালোভাবে জানতে হলে সে ভাষার ব্যকরণকে জানতে হবে।
বাংলা ব্যকরণের “কি” এবং “কী” নামক দুটি প্রশ্নবোধক অব্যয় আছে। আমরা অধিকাংশ সময় জেনে হোক বা না জেনে হোক “কি” ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু সবসময় তো আর “কি” ব্যবহার করা যায়না। কিছু কিছু সময় “কী” ব্যবহার করতে হয়। আসুন জেনে নেই কোথায় “কি” এবং কোথায় “কী” ব্যবহার করতে হয়?
১।কোন প্রশ্ন করার পর তার উত্তর যদি হা বা না দিয়ে দেওয়া যায় তবে সেসব প্রশ্ন বোধক বাক্যে “কি” ব্যবহার করতে হয়। যেমনঃ-
তোমার স্কুল কি আজ ছুটি?
তুমি কি ভাত খেয়েছো?
তোমার বাবা কি বাড়িতে আছে?
প্রশ্নগুলোর উত্তর হবে হা অথবা না।
২। কোন প্রশ্ন করার পর তার উত্তর যদি হা বা না দিয়ে দেওয়া না যায় এবং তার পরিবর্তে কোন বিশেষ্য পদ ব্যবহৃত হয় বা কোন নাম ব্যবহার করতে হয়, তবে সেসব প্রশ্ন বোধক বাক্যে “কী” ব্যবহার করতে হয়। যেমনঃ-
তোমার নাম কী?
সকালের নাশ্তায় তুমি কী খেয়েছো?
তুমি এখন কী পড়ছো ?
এসব প্রশ্নের উত্তর হা বা না দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এগুলোর পরিবর্তে কোন নাম ব্যবহার করতে হবে। প্রথম বাক্যের উত্তরে সাকিব, রাকিব এরকম কোন নাম আসবে। ‍দ্বিতীয় বাক্যের উত্তরে কোন খাবারের নাম আসবে। তৃতীয় বাক্যের উত্তরে আসবে কোন বইয়ের নাম।
৩। আবার বাক্যে যখন শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ অথবা বিশেষণের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন “কী” ব্যবহার করতে হয়। আবার বিস্ময়সূচক বাক্যে “কী” ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ-
তুমি কীভাবে তাকাচ্ছো আমার দিকে!
  কী সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য!

বিসিএস সহ বিভিন্ন চাকরী পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ ।

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বাংলা ভাষার আছে অতি উন্নতমানের ব্যকরণ। এই ব্যকরণ অতি সমৃদ্ধ। বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় দেখা যায় সন্ধি বিচ্ছেদ আসে। বলা যায় প্রায় প্রত্যেকটি চাকরীর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ  অধ্যায় হচ্ছে সন্ধি ।
পাশাপাশি দুই বা ততোধিক বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি মূলত ৩ প্রকার । স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি এবং বিসর্গ সন্ধি। আসুন চাকরীর প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ জেনে নেই।
প্রদত্ত শব্দসন্ধি বিচ্ছেদপ্রদত্ত শব্দসন্ধি বিচ্ছেদ
শতেকশত+এককতেককত+ এক
শাঁখারিশাঁখা+ আরিরূপালিরূপা + আলি
মিথ্যুকমিথ্যা + উকহিংসুকহিংসা + উক
কুড়িককুড়ি + একধনিকধনি + এক
বারেকবার + একতিনেকতিন + এক
হিমাচলহিম+ আচলহিমালয়হিম + আলয়
নরাধমনর + অধমপ্রাণাধিকপ্রাণ + অধিক
সিংহাসনসিংহ+ আসনবিদ্যালয়বিদ্যা + আলয়
শুভেচ্ছশুভ + ইচ্ছাযথেষ্টযথা + ইষ্ট
মহেশমহা + ঈশসূর্যদয়সূর্য + উদয়
যথোচিতযথা + উচিতদেবর্ষিদেব + ঋষি
শীতার্তশীত + ঋততৃষ্ঞার্ততৃষ্ঞা + ঋত
ক্ষুধার্তক্ষুধা + ঋতজনৈকজন + এক
মতৈক্যমত + ঐক্য মহৌষধিমহা + ঔষধি
অতীতঅতি + ইতপরীক্ষাপরি + ঈক্ষা
অত্যন্তঅতি + অন্ত ইত্যাদিইতি + আদি
অত্যুক্তিঅতি + উক্তিপ্রত্যেকপ্রতি + এক
প্রত্যহপ্রতি  + অহঅত্যাধিকঅতি + অধিক
প্রত্যাশাপ্রতি + আশাঅদ্যন্তআদি + অন্ত
মরূদ্যানমরু + উদ্যানস্বাগতসু + আগত

অন্বেষণঅনু + এষণনয়ননে + অন
নায়কনৈ + অকপবনপো + অন
গবাদিগো + আদিগবেষণাগো + এষণা
পবিত্রপো + ইত্রনাবিকনৌ + ইক
ভাবুকভৌ + উকশয়নশে + অন
গায়কগৈ + অকলবণলো + অন
দিগন্তদিক্ + অন্তসুবন্তসুপ + অন্ত
একচ্ছত্রএক + ছত্রপরিচ্ছদপরি + ছদ
সচ্চিন্তাসৎ + চিন্তাউচ্ছেদউৎ + ছেদ
সজ্জনসৎ + জনকুজ্ঝটিকাকুৎ + ঝটিকা
উড্ডীনউৎ + ডীনউদ্ধারউৎ + হার
পদ্ধতিপদ + হতিউল্লাসউৎ + লাস
বাগদানবাক্ + দানষড়যন্ত্রষট + যন্ত্র
উদ্যোগউৎ + যোগতদ্রুপতৎ + রূপ
শঙ্কাশম্ + কাসঞ্চয়সম্ + চয়
সংগতসম + গতঅহংকারঅহম্ + কার
সংখ্যাসম্ + খ্যাসংযমসম্ + যম
সংলাপসম্ + লাপসংহারসম্ + হার
সংবাদসম্ + বাদসংশয়সম্ + শয়
সংরক্ষণসম্ + রক্ষণসংসারসম্ + সার

তৎকালতদ + কালকৃষ্টিকৃষ্ + তি
উত্থানউৎ + স্থানসংস্কারসম্ + কার
উত্থাপনউৎ + স্থাপনসংস্কৃতসম্ + কৃত
পরিষ্কারপরি + কারতিরোধানতিরঃ + ধান
ততোধিকততঃ + অধিকমনোরমমনঃ + রম
মনোহরমনঃ + হরতপোবনতপঃ + বন
অন্তর্গতঅন্তঃ + গতপুনরায়পুনঃ + আয়
অহরহঅহঃ+ অহঅন্তর্ভুক্তঅন্তঃ + ভুক্ত
নিরাকারনিঃ + আকারআশীর্বাদআশীঃ + বাদ
দুর্যোগদুঃ + যোগবহির্গতবহিঃ + গত
নীরবনিঃ + রবনীরসনিঃ + রস
নিশ্চয়নিঃ চয়শিরচ্ছেদশিরঃ + ছেদ
নিষ্ঠুরনিঃ + ঠুরদুস্তরদুঃ + তর
দুস্থদুঃ + থপদস্থলনপদঃ + খলন
দুষ্করদুঃ + করমনঃকষ্টমনঃ + কষ্ট
ভাস্করভাঃ + করঅহর্নিশঅহঃ + নিশা
অহরহঅহঃ + অহদুষ্প্রাপ্যদুঃ + প্রাপ্য
আবিষ্কারআবিঃ + কারচতুষ্পদচতুঃ + পদ
ইত্যাদি ইতি + আদিমৃন্ময়মৃৎ + ময়
উচ্চারণউৎ + চারণরবীন্দ্ররবি + ইন্দ্র
চাকরি পরীক্ষার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু  সন্ধি বিচ্ছেদ আছে। এগুলোর নাম নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি মনে রাখার সহজ উপায় ।

কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয়না; এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। কোনগুলো নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি তা জানার জন্য আমরা একটি কৌশল অবলম্বন করতে পারি
একাদশ বৃহস্পতি বারে তস্কর বনস্পতি পরস্পর গবাক্ষ চুরি করে আসছিলো, তখন ষোড়শী নায়িকা মনীষা তার অন্যান্য বান্ধবীদের সাথে দেখা হলো। নায়িকা আশ্চর্য হয়ে তার বান্ধবী পতঞ্জলিকে ডেকে বললো,"সখি এই কুলটারা কি কখনও নরকে যাবেনা"?
উপরের বাক্যদ্বয়ে লাল কালি চিহ্নিত শব্দগুলো হচ্ছে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। এই সন্ধি গুলোর বিচ্ছেদ জেনে নেই
+চর্য = আশ্চর্য
এক+দশ = একাদশ
বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি
তৎ+কর = তস্কর
বন+পতি= বনস্পতি
পর+পর = পরস্পর
গো+ অক্ষ = গবাক্ষ
ষট্ + দশ = ষোড়শ
অন্য+ অন্য = অন্যান্য
+ চর্য = আশ্চর্য
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
কুল+অটা = কুলটা
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
কিছু বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি আছে যে গুলো বিশেষ নিয়মে তার বিচ্ছেদ করতে হয়
পরিষ্কার সংস্কৃতি উত্থান ঘটেছে কিছু সংস্কারমূলক কর্মকান্ড উত্থাপনে মাধ্যমে
আসুন জেনে নেই এদের বিচ্ছেদ গুলো
উৱ+স্থান = উত্থান
সম্ +কৃত = সংস্কৃত
সম্ + কার = সংস্কার
পরি+ কার = পরিষ্কার
উৱ+ স্থাপন= উত্থাপন

বিভিন্ন ভাষার শব্দ মনে রাখার সহজ উপায় ।

১.পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

গীর্জাপাদ্রি গুদামের বড় কামারাআলমারীর চাবি খুলে বালতি ভর্তি পাউরুটি, আনারস  আতা, আচার, কাবাব এবং কেরাণিকে দিয়ে ইস্পাতের অন্য বাসনে আলকাতরা,আলপিন, ফিতা নিয়ে বেরিয়ে এসে সাবান মার্কা তোয়ালে পেতে বসলেন।
লাল কালি চিহ্নিত গীর্জা, কামরা, পাদ্রি, গুদাম, আলমারী, চাবি, বালতি, পাউরুটি, আনারস, আতা, আচার, কাবাব, কেরানী, ইস্পাত, বাসন, আলকাতরা, আলপিন, ফিতা, সাবান, মার্কা এবং তোয়ালে পর্তুগীজ শব্দ।

২.ফরাসি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

বাংলা শব্দ ভান্ডারে বহু ফরাসি শব্দ আছে যা এই উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন এবং তাদের ভাষা থেকে আমাদের বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। নিচের চমৎকার ছড়াটির মাধ্যমে ফরাসি শব্দ মনে রাখা যায়।
ফরাসিরা কার্তুজ কাটে
কুপন নিয়ে যায় রেস্তোরাঁ
সেমিজ ঘরে পাতি পাতি
ডিপোতে সব বাস রয়।
কার্তুজ কুপন ডিপো রেস্তোরাঁ আঁশ ওলন্দাজ  শেমিজ পাতি-এগুলো ফরাসি শব্দ।

৩.ওলন্দাজ শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ 

বহু শব্দ ওলন্দাজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। নিচের ছড়াটির মাধ্যমে ওলন্দাজ শব্দ মনে রাখা যেতে পারে।
ওলন্দাজদের তাস খেলতে
লাগে ইস্কাপন
আরো লাগে টেক্কা তুরুপ
হরতন রুইতন
ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, হরতন ও রুইতন।
৪.তুর্কি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ
সুলতান দারোগাবাবা আলখেল্লা পরে বেগম রহিমা খাতুন ও চাকরকে সাথে নিয়ে শিকারে গেলেন। তার বন্দুকের গুলিতে চাকুওয়ালা বাবুর্চি এবং কুলি লাশ পড়লে সাজা ভোগ শেষে মুচলেকা দিয়ে জনগনের বারুদ নেভালেন।
বাবা, দারোগা, কুলি, লাশ, চাকু, বাবুর্চি , সুলতান, বন্দুক , বারুদ , চাকর, মুচলেকা, খাতুন ,বেগম, আলখেল্লা ইত্যাদি তুর্কি শব্দ।

৫.গুজরাটি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

গুজরাটিরা দামি খদ্দর পরে হরতাল করে।
খদ্দর এবং হরতাল গুজরাটি শব্দ।

৬.পাঞ্জাবী শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

শিখ তারকাদের কাছে পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি।

৭.চীনা শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

চা, চিনি, লিচু লুচি চীনাদের প্রিয় খাবার।
চা, চিনি, লিচু ও লুচি চীনা শব্দ।

৮.বার্ম শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

বার্মাদের কাছে লুঙ্গি ফুঙ্গি জনপ্রিয় পোষাক।

৯.জাপানি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

হাসনাহেনা ক্যারাটে জুডো শিখতে রোজ রিকসায় যায়।
১০.ফারসি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ  নিচের ছড়ার মাধ্যমে ফারসি শব্দ মনে রাখা যেতে পারে। সবগুলোই ফারসি শব্দ।
খোদা গুনাহ দোজখ নামাজ পয়গম্বর
কারখান চশমা তারিখ তোষক দফতর।
রোজা ফেরেস্তা ভেস্ত দোকান দরবার
আমদানি রফতানি জিন্দা জানোয়ার।
নালিশ বাদশাহ বান্দা  দৌলাত
বেগম মেথর নমুনা  দস্তখত।
১১.আরবি শব্দ মনে রখার কৌশলঃ নিচের ছড়ার মাধ্যমে আরবি শব্দ মনে রাখা যেতে পারে।সবগুলোই আরবি শব্দ।
আল্লাহ ইসলাম ওজু গোসল কুরআন
হজ্জ যাকাত হারাম হালাল ঈমান।
মোক্তার রায় জাহান্নাম খারিজ আদালত
আলেম এলেম গায়েব কেচ্ছা কিয়ামত।
ঈদ উকিল ওজর এজলাস ইসনান
কলম কানুন নগদ বাকি লোকসান।

উপসর্গ মনে রাখার সহজ উপায়।

উপসর্গ কাকে বলে?

যে অব্যয়সূচক শব্দাংশ স্বাধীনভাবে বাক্যে বসতে পারেনা বলে অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে তাকে উপসর্গ বলে।

suffix


বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার।

। তৎসম উপসগঃ তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ মোট ২০ টি। নিচের ছড়াটির মাধ্যমে তৎসম উপসর্গ সহজেই মনে রাখা যায় ।
প্র পরা সম্ নি অপ
অনু নির দুর বি অব
অপি অধি  উৎ পরি প্রতি
আ সু অভি উপ  অতি।

২। বাংলা উপসর্গঃ বাংলা  উপসর্গ মোট ২১ টি। নিচের ছড়াটির মাধ্যমে তৎসম উপসর্গ সহজেই মনে রাখা যায় ।
অ আ অজ অঘা আড়
রাম অনা হা সু  ভর।
কু স সা আন  ঊন ইতি
আব কদ  বি  নি পাতি।

৩। বিদেশী উপসর্গঃ আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু  প্রভৃতি ভাষা হতে বাংলা ভাষায় আগত অনেক উপসর্গ দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহৃত হচ্ছে।
যেমনঃ
ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম
আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, বাজে, পর, খয়ের
ইংরেজি উপসর্গ- ফুল, হাফ, হেড, সাব
উর্দু- হিন্দি উপসর্গ- হর,

বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার মনে রাখার সহজ উপায়

বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।


১.তৎসম শব্দঃ তৎ অর্থ তার এবং সম অর্থ সমান। যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং কোন পরিবর্তন হয়নি তাদেরকে তৎসম শব্দ বলে।  নিচের ছড়ার মাধ্যমে সহজেই তৎসম শব্দ মনে রাখা যায়।
মনুষ্য পৃথিবী চন্দ্র সূর্য  নক্ষত্র
জল বৃক্ষ ভবন ধর্ম পাত্র।


২. অর্ধতৎসম শব্দঃ যে সব শব্দ সংস্কৃত থেকে সামান্য পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সেসব শব্দকে অর্ধ তৎসম শব্দ বলে। বোষ্টম, গিন্নী,ছেরাদ্দ, নেমন্তন্ন, গতর, কুচ্ছিত, জোছনা এগুলো অর্ধ তৎসম শব্দ।   নিচের ছড়ার মাধ্যমে সহজেই তৎসম শব্দ মনে রাখা যায়।
বোষ্টম গিন্নীর ছেরাদ্দ
সাত গাঁয় নেমন্তন্ন
জোছনা বিবির কুচ্ছিত গতর
রোগ ও শোকের জন্য।



৩.তদ্ভব শব্দঃ যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে তাদেরকে তদ্ভব শব্দ বলে।    হাত, চামার, চাঁদ, সাপ, মাথা,দই, বৌ এবং এগার এগুলো তদ্ভব শব্দ।   নিচের ছড়ার মাধ্যমে সহজেই তদ্ভব শব্দ মনে রাখা যায়।
সাপে  ডরে বড় বৌ
এলে এগার চাঁদ
চামার মশাই দই খেয়ে
মাথায় বুলায় হাত   ।


৪. দেশি শব্দঃ যেসব শব্দ আদিম বাংলা ভাষা ভাষীদের থেকে এসেছে সেসব শব্দগুলোকে দেশি শব্দ বলে। নিচের ছড়ার মাধ্যমে সহজেই তদ্ভব শব্দ মনে রাখা যায়।
কুড়ি চুলা কুলা পেট গঞ্জ চোঙ্গা
টোপর ডাব ডাগর ঢেঁকি ডিঙ্গা।

৫. বিদেশি শব্দঃ যেসব শব্দ বিদেশী ভাষা হতে বাংলা ভাষায় এসেছে সেসব শব্দগুলোকে বিদেশী শব্দ বলে। বিদেশী শব্দ মনে রাখার কৌশল