Showing posts with label Bangla Poem. Show all posts
Showing posts with label Bangla Poem. Show all posts

Oct 4, 2020

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

                                                                            আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

                                                                        ধান দেব মেপে

         লেবুর পাতা করমচা    

                        যা বৃষ্টি চলে যা।

Jun 27, 2020

চল চল চল -কাজী নজরুল ইসলাম

নতুনের গান/ চল চল চল
-কাজী নজরুল ইসলাম
ল চল চল!
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণি তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।

ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।

নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মশান,
আমরা দানিব নতুন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল!
চল রে নও-জোয়ান,
শোন রে পাতিয়া কান
মৃত্যু-তরণ-দুয়ারে দুয়ারে
জীবনের আহবান।
ভাঙ রে ভাঙ আগল,
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।

ঊর্ধ্ব আদেশ হানিছে বাজ,
শহীদী-ঈদের সেনারা সাজ,
দিকে দিকে চলে কুচ-কাওয়াজ—
খোল রে নিদ-মহল!

কবে সে খেয়ালী বাদশাহী,
সেই সে অতীতে আজো চাহি'
যাস মুসাফির গান গাহি'
ফেলিস অশ্রুজল।

যাক রে তখত-তাউস
জাগ রে জাগ বেহুঁশ।
ডুবিল রে দেখ কত পারস্য
কত রোম গ্রিক রুশ,
জাগিল তা'রা সকল,
জেগে ওঠ হীনবল!
আমরা গড়িব নতুন করিয়া
ধুলায় তাজমহল!
চল্‌ চল্‌ চল্।।




May 16, 2020

তোতা পাখি -যোগীন্দ্রনাথ সরকার

তোতা পাখি
-যোগীন্দ্রনাথ সরকার


আতা গাছে তোতা পাখি
ডালিম গাছে মৌ
এত ডাকি তবু কথা
কও না কেন বউ?

কথা কব কী ছলে,
কথা  কইতে গা জ্বলে!

ata gace tota paki



মজার দেশ যোগীন্দ্রনাথ সরকার

মজার দেশ
যোগীন্দ্রনাথ সরকার

এক যে আছে মজার দেশ
সব রকমে ভালো,
রাত্তিরেতে বেজায় রোদ
দিনে চাঁদের আলো !

আকাশ সেথা সবুজবরণ
গাছের পাতা নীল
ডাঙ্গায় চরে রুই কাতলা
জলের মাঝে চিল !

মণ্ডা-মিঠাই তেতো সেথা
ওষুধ লাগে ভালো;
অন্ধকারটা সাদা দেখায়
সাদা জিনিস কালো !

ছেলেরা সব খেলা ফেলে 
বই নে বসে পড়ে;
মুখে লাগাম দিয়ে ঘোড়া
লোকের পিঠে চড়ে !

মজার দেশের মজার 
কথা বলবো কত আর;
চোখ খুললে যায় না দেখা
 মুদলে পরিষ্কার !


(শিশুদের পাঠ্য বইয়ে এতটুকু দেওয়া আছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ছড়াটি নিচে দেওয়া হলো।)


মজার দেশ
যোগীন্দ্রনাথ সরকার
এক যে আছে মজার দেশ, সব রকমে ভালো,
রাত্তিরেতে বেজায় রোদ, দিনে চাঁদের আলো !
       আকাশ সেথা সবুজবরণ গাছের পাতা নীল;
       ডাঙ্গায় চরে রুই কাতলা জলের মাঝে চিল !

সেই দেশেতে বেড়াল পালায়, নেংটি-ইঁদুর দেখে;
ছেলেরা খায় 'ক্যাস্টর-অয়েল' -রসগোল্লা রেখে !
       মণ্ডা-মিঠাই তেতো সেথা, ওষুধ লাগে ভালো;
       অন্ধকারটা সাদা দেখায়, সাদা জিনিস কালো !

ছেলেরা সব খেলা ফেলে বই নে বসে পড়ে;
মুখে লাগাম দিয়ে ঘোড়া লোকের পিঠে চড়ে !
       ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই, উড়তে থাকে ছেলে;
       বড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে, মাছেরা ছিপ্ ফেলে !

জিলিপি সে তেড়ে এসে, কামড় দিতে চায়;
কচুরি আর রসগোল্লা ছেলে ধরে খায় !
পায়ে ছাতি দিয়ে লোকে হাতে হেঁটে চলে !
ডাঙ্গায় ভাসে নৌকা-জাহাজ, গাড়ি ছোটে জলে !

মজার দেশের মজার কথা বলবো কত আর;
চোখ খুললে যায় না দেখা মুদলে পরিষ্কার !

ট্রেন -শামসুর রাহমান


ট্রেন
-শামসুর রাহমান
ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে

রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে
ট্রেনের বাড়ি কই?
একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায়
মাঠ পেরুলেই বন।
পুলের ওপর বাজনা বাজে
ঝন ঝনাঝন ঝন।
দেশ বিদেশ বেড়ায় ঘুরে
নেইকো ঘোরার শেষ।
ইচ্ছে হলেই বাজায় বাঁশি,
দিন কেটে যায় বেশ।
থামবে হঠাৎ মজার গাড়ি
একটু কেশে খক।
আমায় নিয়ে ছুটবে আবার
ঝক ঝকাঝক ঝক।


May 15, 2020

ঝুমকো জবা -ফররুখ আহমদ

ঝুমকো জবা
-ফররুখ আহমদ
ঝুমকো জবা বনের দুল
উঠল ফুটে বনের ফুল।
সবুজ পাতা ঘোমটা খোলে
ঝুমকো জবা হাওয়ায় দোলে।
সেই দুলনির তালে তালে
মন উড়ে যায় ডালে ডালে।


বৃষ্টির ছড়া -ফররুখ আহমদ

বৃষ্টির ছড়া
-ফররুখ আহমদ
বৃষ্টি এল কাশ বনে
জাগল সাড়া ঘাস বনে,
বকের সারি কোথা রে
লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে।
নদীতে নাই খেয়া যে,
ডাকল দূরে দেয়া যে,
কোন সে বনের আড়ালে
ফুটল আবার কেয়া যে।
গাঁয়ের নামটি হাটখোলা,
বিষটি বাদল দেয় দোলা,
রাখাল ছেলে মেঘ দেখে,
যায় দাঁড়িয়ে পথ-ভোলা।
মেঘের আঁধার মন টানে,
যায় সে ছুটে কোন খানে,
আউশ ধানের মাঠ ছেড়ে
আমন ধানের দেশ পানে।

May 10, 2020

কাজের ছেলে -যোগীন্দ্রনাথ সরকার

কাজের ছেলে
-যোগীন্দ্রনাথ সরকার

দাদখানি চাল,    মুসুরির ডাল,
           চিনি-পাতা দৈ,
দু’টা পাকা বেল,  সরিষার তেল,
            ডিমভরা কৈ।
পথে হেঁটে চলি, মনে মনে বলি,
           পাছে হয় ভুল;
ভুল যদি হয়, মা তো নিশ্চয়,
          ছিঁড়ে দেবে চুল।
দাদখানি চাল, মুসুরির ডাল,
          চিনি-পাতা দৈ,
দু’টা পাকা বেল, সরিষার তেল,
          ডিমভরা কৈ।

বাহবা বাহবা – ভোলা ভুতো হাবা
          খেলিছে তো বেশ!
দেখিব খেলাতে, কে হারে কে জেতে,
           কেনা হলে শেষ।
দাদখানি চাল, মুসুরির ডাল,
           চিনি-পাতা দৈ,
ডিম-ভরা বেল, দু’টা পাকা তেল,
           সরিষার কৈ।

ওই তো ওখানে ঘুরি ধরে টানে,
        ঘোষদের ননী;
আমি যদি পাই, তা হলে উড়াই
        আকাশে এখনি!
দাদখানি তেল, ডিম-ভরা বেল,
          দুটা পাকা দৈ,
সরিষার চাল, চিনি-পাতা ডাল,
           মুসুরির কৈ!

এসেছি দোকানে-কিনি এই খানে,
          যত কিছু পাই;
মা যাহা বলেছে, ঠিক মনে আছে,
         তাতে ভুল নাই!
দাদখানি বেল, মুসুরির তেল,
          সরিষার কৈ,
চিনি-পাতা চাল, দুটা পাকা ডাল,
        ডিম ভরা দৈ।

জোনাকিরা -আহসান হাবীব

জোনাকিরা 
-আহসান হাবীব
তারা- একটি দু'টি তিনটি করে এলো
তখন- বৃষ্টি-ভেজা শীতের হাওয়া
বইছে এলোমেলো,
তারা- একটি দু'টি তিনটি করে এলো।
থই থই থই অন্ধকারে
ঝাউয়ের শাখা দোলে
সেই- অন্ধকারে শন শন শন
আওয়াজ শুধু তোলে।
ভয়েতে বুক চেপে
ঝাউয়ের শাখা , পাখির পাখা
উঠছে কেঁপে কেঁপে ।
তখন- একটি দু'টি তিনটি করে এসে
এক শো দু শো তিন শো করে
ঝাঁক বেঁধে যায় শেষে
তারা- বললে ও ভাই, ঝাউয়ের শাখা,
বললে ও ভাই পাখি,
অন্ধকারে ভয় পেয়েছো নাকি ?
যখন- বললে, তখন পাতার ফাঁকে
কী যেন চমকালো।
অবাক অবাক চোখের চাওয়ায়
একটুখানি আলো।
যখন- ছড়িয়ে গেলো ডালপালাতে
সবাই দলে দলে
তখন- ঝাউয়ের শাখায়- পাখির পাখায়
হীরে-মানিক জ্বলে।
যখন- হীরে-মানিক জ্বলে
তখন- থমকে দাঁড়াঁয় শীতের হাওয়া
চমকে গিয়ে বলে-
খুশি খুশি মুখটি নিয়ে
তোমরা এলে কারা?
তোমরা কি ভাই নীল আকাশের তারা ?
আলোর পাখি নাম জোনাকি
জাগি রাতের বেলা,
নিজকে জ্বেলে এই আমাদের
ভালোবাসার খেলা।
তারা নইকো- নইকো তারা
নই আকাশের চাঁদ
ছোট বুকে আছে শুধুই
ভালোবাসার সাধ।

মামার বাড়ি -জসীমউদদীন

মামার বাড়ি
-জসীমউদদীন
আয় ছেলেরা , আয় মেয়েরা
ফুল তুলিতে যাই,
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
মামার বাড়ি যাই।
ঝড়ের দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ,
পাকা জামের মধুর রসে
রঙিন করি মুখ।





স্বাধীনতার সুখ -রজনীকান্ত সেন

স্বাধীনতার সুখ
-রজনীকান্ত সেন

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই-
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই;
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা ‘পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে- “সন্দেহ কি তায় ?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়;
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”




মাঝি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মাঝি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার যেতে ইচ্ছে করে
নদীটির ঐ পারে
যেথায় ধারে ধারে
বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকা
বাঁধা সারে সারে।
কৃষকেরা পার হয়ে যায়
লাঙল কাঁধে ফেলে
জাল টেনে নেয় জেলে,
গরু মহিষ সাঁতরে নিয়ে
যায় রাখাল ছেলে।
সন্ধ্যে হলে যেখান থেকে
সবাই ফিরে ঘরে,
শুধু শেয়ালগুলো ডেকে উঠে
ঝাউ ডাঙাটার পারে।
মা, যদি হও রাজি,
বড় হলে আমি হব
খেয়া ঘাটের মাঝি।





Apr 29, 2020

নোটন নোটন পায়রাগুলি

নোটন নোটন পায়রাগুলি
ঝোটন বেঁধেছে,
ওপারেতে ছেলেমেয়ে
নাইতে নেমেছে।
দুই ধারে দুই রুই কাতলা
ভেসে উঠেছে,
কে দেখেছে কে দেখেছে
দাদা দেখেছে।
দাদার হাতে কলম ছিল
ছুড়ে মেরেছে,
উঃ বড্ড লেগেছে।



আমাদের গ্রাম - বন্দে আলী মিয়া

আমাদের গ্রাম
 - বন্দে আলী মিয়া
আমাদের ছোট গায়ে ছোট ছোট ঘর
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর্।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই
একসাথে খেলি আর পাঠশালায় যাই।
হিংসা ও মারামারি কভু নাহি করি
পিতামাতা গুরুজনে সাদা মোরা ভরি।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান
আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাচাইছে প্রাণ।
মাঠ ভরা ধান আর জল ভরা দিঘী
চাদর কিরন লেগে করে ঝিকিমিকি।
আম গাছ জাম গাছ বাশঝাড় যেন
মিলে মিশে আছে ওরা আত্তিয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে
পাখি ডাকে বায়ু বয় নানা ফুল ফুটে।





স্বদেশ -আহসান হাবীব





স্বদেশ
-আহসান হাবীব
এই যে নদী নদীর জোয়ার
নৌকা সারে সারে,
একলা বসে আপন মনে
বসে নদীর ধারে
এই ছবিটি চেনা।
মনের মধ্যে যখন খুশি

এই ছবিটি আঁকি

এক পাশে তার জারুল গাছে
দুটি হলুদ পাখি,
এমনি পাওয়া এই ছবিটি
করিতে নয় কেনা।

মাঠের পরে মাঠ চলেছে
নেই যেন এর শেষ,
নানা কাজের মানুষগুলো
আছে নানান বেশ,
মাঠের মানুষ যায় মাঠে আর
হাটের মানুষ হাটে,
দেখে দেখে একটি ছেলের
সারাটা দিন কাটে।

এই ছেলেটির মুখ
সারা দেশের সব ছেলেদের
মুখেতে টুকটুক
কে তুমি ভাই,
প্রশ্ন করি যখন,
ভালোবাসার শিল্পী আমি,
বলবে হেসে তখন৷
এই যে ছবি এমনি আকা
ছবির মতো দেশ,
দেশের মাটি দেশের মানুষ
নানান রকম বেশ,
বাড়ি বাগান পাখ-পাখালি
সব মিলে এক ছবি,
নেই তুলি নেই রং, তবুও
আঁকতে পারি সবই৷

Apr 28, 2020

পারিব না কালী প্রসন্ন ঘোষ




পারিব না

কালী প্রসন্ন ঘোষ

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,
পাঁচজনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।

পারিব না বলে মুখ করিও না ভার,
ও কথাটি মুখে যেন না শুনি তোমার,
অলস অবোধ যারা
কিছুই পারে না তারা,
তোমায় তো দেখি নাক তাদের আকার
তবে কেন পারিব না বল বার বার?

জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতার
হাঁটিতে শিখে না কেহ না খেয়ে আছাড়,
সাঁতার শিখিতে হলে
আগে তব নাম জলে,
আছাড়ে করিয়া হেলা, হাঁট বার বার
পারিব বলিয় সুখে হও আগুসার।

কাজের লোক -নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য



কাজের লোক

-নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

“মৌমাছি, মৌমাছি,
কোথা যাও নাচি' নাচি'
দাঁড়াও না একবার ভাই।''
“ওই ফুল ফোটে বনে,
যাই মধু আহরণে
দাঁড়াবার সময় তো নাই।''

“ছোট পাখি, ছোট পাখি,
কিচি-মিচি ডাকি ডাকি'
কোথা যাও বলে যাও শুনি?''
“এখন না ক'ব কথা,
আনিয়াছি তৃণলতা,
আপনার বাসা আগে বুনি।''

“পিপীলিকা, পিপীলিকা,
দল-বল ছাড়ি একা
কোথা যাও, যাও ভাই বলি।''
“শীতের সঞ্চয় চাই,
খাদ্য খুঁজিতেছি তাই
ছয় পায়ে পিল পিল চলি।''

সফদার ডাক্তার -হোসনে আরা

সফদার ডাক্তার
-হোসনে আরা
সফদার ডাক্তার
মাথা ভরা টাক তার
খিদে পেলেপানি খায় চিবিয়ে।
চেয়ারেতে রাত দিন
বসে গুনে দুই তিন
পড়ে বইআলোটারে নিভিয়ে।

ইয়া বড় গোফ তার
নাই তার জুড়ি দার
শুলে তারভুড়ি ঠেকে আকাশে।
নুন দিয়ে খায় পান
সারাক্ষন গায় গান
বুদ্ধিতেঅতি বড় পাকা সে।

রোগী এলে ঘরে তার
খুশিতে সে চার বার
কষে দেয় ডন আর কুস্তি।
তার পর রোগীটারে
গোটা দুই চাটি মারে
যেন তার সাথে কত দোস্তি।

ম্যালেরিয়া রোগী এলে
তার নাই নিস্তার
ধরে তারে দেয় কেচো গিলিয়ে।
আমাশার রোগী এলে
ই হাতে কান ধরে
পেটটারে ঠিক করে কিলিয়ে।

কলেরার রোগী এলে
দুপুরের রোদে ফেলে
দেয় তারে কুইনিন খাইয়ে।
তারপরে দুই টিন
পচা জলে তারপিন
ঢেলে তারে দেয় শুধু নাইয়ে।

ডাক্তার সফদার
নামডাক খুব তার
নামে গাও থরথরি কম্প,
নাম শুনে রোগীসব
করে জোরে কলরব
পিঠটান দেয় দিয়ে লম্ফ।

একদিন সক্ কাল
ঘটল কী জঞ্জাল
ডাক্তারে ধরে এসে পুলিশে,
হাত কড়া দিয়ে হাতে
নিয়ে গেল থানাতে
তারিখটা আষাঢ়ের উনিশে।

পণ্ডশ্রম– শামসুর রাহমান

https://thepeakplacebd.blogspot.com/2020/04/pondo-srom-samsur-rahman.html



পণ্ডশ্রম
-শামসুর রাহমান

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,
কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।
কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?
কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।

যাচ্ছে, গেল সবই গেল, জাত মেরেছে চিলে,
পাঁজি চিলের ভূত ছাড়াব লাথি-জুতো কিলে।
সুধী সমাজ! শুনুন বলি, এই রেখেছি বাজি,
যে-জন সাধের কান নিয়েছে জান নেব তার আজই।

মিটিং হল ফিটিং হল, কান মেলে না তবু,
ডানে-বাঁয়ে ছুটে বেড়াই মেলান যদি প্রভু!
ছুটতে দেখে ছোট ছেলে বলল, কেন মিছে
কানের খোঁজে মরছ ঘুরে সোনার চিলের পিছে?

নেইকো খালে, নেইকো বিলে, নেইকো মাঠে গাছে;
কান যেখানে ছিল আগে সেখানটাতেই আছে।
ঠিক বলেছে, চিল তবে কি নয়কো কানের যম?
বৃথাই মাথার ঘাম ফেলেছি, পণ্ড হল শ্রম।

আম পাতা জোড়া-জোড়া

আম পাতা জোড়া-জোড়া
আম পাতা জোড়া-জোড়া,
মারবো চাবুক চড়বো ঘোড়া।
ওরে বুবু সরে দাঁড়া,
আসছে আমার পাগলা ঘোড়া।
পাগলা ঘোড়া ক্ষেপেছে,
চাবুক ছুঁড়ে মেরেছে।




https://thepeakplacebd.blogspot.com/2020/04/ampata-jora-jora.html