Showing posts with label Sports. Show all posts
Showing posts with label Sports. Show all posts

Feb 10, 2020

যুব বিশ্বকাপের নতুন চাম্পিয়ন বাংলাদেশ, গড়েছে ইতিহাস।

দক্ষিণ আফিকায়  বৃষ্টি আইনে ৩ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপে চাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশের যুবারা গড়েছে নতুন ইতিহাস। অভিনন্দন বাংলাদেশের যুবাদের। সারাদেশে চলছে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।







জাতীয় দল যখন বারবার এশিয়া কাপের ফাইনাল, নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল সহ কয়েকটি ফাইনালে গিয়েও চাপের মুখে ভেঙে পড়েছে, ব্যর্থ হয়েছে বারবার ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন, তখন বাংলাদেশের যুবারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতকে ৩  উইকেটে হারিয়ে প্রথম বারের মত যুব বিশ্বকাপের চাম্পিয়ন হয়েছে। যেটা ছিলো গোটা বাঙালি জাতির স্বপ্ন যা আজ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

এই জয়টা মোটেও সহজ ছিলোনা। প্রথমে ভারতের অনুর্ধ্ব ১৯ যুবরা টসে হেরে ব্যাট করে  টসে  ৪৭.২ ওভারে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ও ভয়ংঙ্কর বোলিং লাইনের সামনে মাত্র ১৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারত শুরুতে অত্যন্ত ধীরগতিতে শুরু করে।দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান জয়সয়াল ১২১ বলে ৮৮ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন যেটা ভারতের জন্য লড়াই করার পুঁজি এনে দিয়েছে। এছাড়া তিলক ভার্মা ৩৮ এবং ধ্রুব জুরেল ২২ রান করেন। এছাড়া বলার মত কোন স্কোর কেউ করতে পারেন নি মুলত বাংলাদেশের বোলিং লাইনের তোপের মুখে।







শুরুতেই শরিফুল, সাকিব, অভিষেকের বোলিং তোপে ভারত দিশেহারা হয়ে পড়ে। খেলতে থাকে টেস্ট মেজাজে কারণ বোলিং নয় তখন মনে হয় আগুন ঝরছিলো।

শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ৩১ রানে ২ উইকেট, তানজিম হাসান সাকিব ২৮ রানে ২ উইকেট,   অভিষেক দাস ৪০ রানে ৩ উইকেট এবং রাকিবুল হাসান ১০ ওভারে ২৯ রানে ১ উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দুর্দান্ত শুরু করেন। ৮.৫ ওভারে ৫০ রান আসে ওপেনিং জুটিতে। ্ এরপর ভারতের রবি বিস্ময় এর বোলিং তোপে মাত্র ১৫ রানের মধ্যেই বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায়। একপর্যায়ে বাংলাদেশের রান দাড়ায় ৬৫/৪। তখন বাংলাদেশ আবারো সাবধানি ক্রিকেট খেলতে শুরু করে কিন্তু তখনো শঙ্কা কাটেনি। ১০২ রানে যখন ৬ উইকেট পড়ে যায় তখন সবাই আবার ভাবতে শুরু করে বাংলাদেশ কি আবারো তীরে এসে তরী ভিড়াবে?  তখন ক্রিজে ফিরে আসেন আহত পারভেজ হাসান ইমন।এটা তখন সাপোর্টার মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। ইমন এবং অধিনায়ক আকবরের জুটিতে বাংলাদেশ জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে তখন ১৪৩ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৭ রানে আউট হয়ে গেলে জয়ের আশা আবারো  ফিকে হয়ে আসে।



ক্রিসে আসেন রাকিবুল হাসান ‍যিনি স্পিনার। তাকে নিয়ে অধিনায়ক আকবর ক্রিসে থিতু হয়ে সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন। মাঝে বৃষ্টি নেমে আসে। তখন তার্গেট দাড়ায় ১৭০ রান। ৪২.১ ওভারে বাংলাদেশ দল ৭ উইকেটে সেই রান টপকে প্রথম বারের মত ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের যুবারা। দক্ষিণ আফ্রিকায় যুব বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ দল প্রথম কোন গ্লোবাল টুর্নামেন্টের ফাইনালে শিরোপা জিতলো। অভিনন্দন বাংলাদেশ দলের যুবাদের।


ফাইনালে কঠিন সময়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দিয়ে বাংলাদেশ দলে অধিনায়ক আকবর আলী নির্বাচিত হয়েছেন “ম্যান অব দ্য ম্যাচ”  এবং পুরো সিরিজে চমৎকার ব্যাটিং  এর জন্য ভারতের ওপেনার জয়সওয়াল “ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট” নির্বাচিত হয়েছেন।


Jan 26, 2020

টি২০ ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা ৫ জন অলরাউন্ডার।

২০০৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারী অকল্যান্ডের ইডেনপার্কে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রথম টি২০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই থেকে অদ্যবধি টি২০ ক্রিকেটে ভুরি ভুরি অলরাউন্ডার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। টি২০ ক্রিকেটে আজ অলরাউন্ডারদের জয়জয়কার। টি২০ ম্যাচে একজন অলরাউন্ডারের কদর সব থেকে বেশি।  আজকে আমরা জানবো ২০০৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত টি২০ ক্রিকেটে  সেরা ১০ জন অলরাউন্ডার কে কে? অবশ্য এটি পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে। যদিও সেরা ১০ জন পছন্দ করার কাজটা কঠিনই বটে। নূন্যতম ১০০০ রান এবং ৫০ উইকেট পাওয়া অলরাউন্ডারদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয়েছে সেরা ১০ জন অলরাউন্ডার। তাহলে চলুন দেখে নেই কে কে আছেন সেরা ১০ জন অলরাউন্ডারের তালিকায়।

ক্রমিকনাম  দেশম্যাচরান সংখ্যাউইকেট
১।সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)৭৬১৫৬৭৯২
২।শহীদ আফ্রিদী (পাকিস্তান)৯৮১৪০৫৯৭
৩।মোহাম্মদ নবী (আফগানিস্তান)৭২১২৯১৬৯
৪।কেভিন ও ব্রেইন (আয়ারল্যান্ড)৯০১৫০৪৫৮
৫।মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)৮৯১৯০৮৫৪

১।সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ): পরিসংখ্যান নয় পারফরমেন্স এর বিচারে সাকিব আল হাসান টি২০ ক্রিকেট নামক ছোট সংস্করণের এই খেলায় সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এতে কোন সংশয় নেই। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টারবয়। বিশ্বক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের মত সব্যসাচী ক্রিকেটার বিরল। ব্যাট বল দুদিকেই সমান পারদর্শী একজন ক্রিকেটার তিনি। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম তাকে টি২০ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করেছেন।  ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার টি২০ ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং তিনি দাপটের সাথে এখনও খেলে চলেছেন। ছোট দলের বড় তারকা হওয়ার কারণে বাংলাদেশ  টি২০ ক্রিকেট খেলার সুযোগ খুব কমই পায়। এজন্য তিনি এ পর্যন্ত মাত্র ৭৬ টি টি২০ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ৭৬টি ম্যাচ খেলে ৭৬ ইনিংস ব্যট করে ২৩.৭৪ গড়ে ১৫৬৭ রান করেন। ৯ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারয়ারে। ৮৪ রান তার ক্যারিয়ার সেরা টি২০ ইনিংস। এছাড়া তিনি ৭৬ ম্যাচ খেলে ৭৫ ইনিংসে বল করে ২০.৫৮ গড়ে ৯২ টি উইকেট লাভ করেন। ক্যারিয়ারে তিনি ১ বার ৫  উইকেট পান।২০ রানে ৫ উইকেট তার  সেরা বোলিং ফিগার। এর পরেও পারফরমেন্স এর বিচারে সর্বকালের সেরাদের একজন থাকবেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন টি২০ লিগের নিয়মিত একজন অপরিহার্য খেলোয়াড় তিনি। মহান এই অলরাউন্ডারকে সমগ্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা থাকলো।













টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা ১০ জন অলরাউন্ডার যারা।

১৮৭৭ সালের ১৫-১৯ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম টেস্ট ক্রিকেট। সেই ১৮৭৭  সাল থেকে অদ্যবধি টেস্ট ক্রিকেটে ভুরি ভুরি অলরাউন্ডার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট ক্রিকেটকে বলা হয় আসল ক্রিকেট। এখানেই বোঝা যায় কোন ব্যাটসম্যানের কোয়ালিটি কেমন বা কোন বোলার কতটা বুদ্ধিমত্তার সাথে করেন। এই টেস্ট  ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের ও পারফরম্যান্সের ছড়াছড়ি। অলরাউন্ডার সেই ক্রিকেটার যিনি ব্যাটে বলে দুক্ষেত্রেই দলের জন্য অবদান রাখেন। বর্তমান যুগের ক্রিকেটারদের মধ্যে অলরাউন্ডারদের অবদান অনস্বীকার্য। একজন সাকিব আল হাসানের কথাই ধরুন, যাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয় বলা হয়। সেই ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে আজও অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে প্রায়ই শীর্ষস্থান দখল করে আসছেন। আজকে আমরা জানবো ১৮৭৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সেরা ১০ জন অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান।
ক্রমিক নাম ও দেশ ম্যাচ রান সংখ্যা উইকেট সংখ্যা
১। জ্যাক ক্যালিস (দঃ আফ্রিকা) ১৬৬ ১৩২৮৯ ২৯২
২। স্যার গ্যারি সোবার্স (ওঃ ইন্ডিজ) ৯৩ ৮০৩২ ২৩৫
৩। কপিল দেব (ভারত) ১৩১ ৫২৪৮ ৪৩৪
৪। ইয়ান বোথাম ( ইংল্যান্ড) ১০২ ৫২০০ ৩৮৩
৫। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি( নিউজিল্যান্ড)
১১৩ ৪৫৩১ ৩৬২
৬। সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) ৫৬ ৩৮৬২ ২১০
৭। এন্ড্রু ফ্লিনটফ (ইংল্যান্ড)
৭৯ ৩৮৪৫ ২২৬
৮। ইমরান খান  ( পাকিস্তান)
৮৮ ৩৮০৭ ৩৬২
৯। শন পোলক (দ: আফ্রিকা)
১০৮ ৩৭৮১ ৪২১
১০।  রিচার্ড হ্যাডলি(নিউজিল্যান্ড)  ৮৬ ৩১২৪ ৪৩১
এখন আসুন টেস্ট ক্রিকেটে এ যাবৎ  শীর্ষ ১০ জন অলরাউন্ডারের প্রফাইল নিয়ে আলোচনা করা যাক।
১। জ্যাক ক্যালিস (দঃ আফ্রিকা): জ্যাক ক্যালিস দক্ষিণ আফ্রিকা দলের একজন অন্যতম সেরা খেলোয়ার। কারো কারো মতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ডারবানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে সেই ডারবানে শেষ টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচটি খেলেন।তিনি ১৬৬ টি টেস্ট খেলে ৩১৪ ইনিংস ব্যাট করে ৫৫.৩৭ গড়ে ১৩২৮৯ রান করেন। তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪৫ টি শতক এবং ৫৮ টি অর্ধশতকের ইনিংস রয়েছে। ১৪৮৮ টি ৪ এবং ৯৭ টি ৬ মারার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। টেস্টে ২২৪ রান তার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং ফিগার। এছাড়া তিনি ২৭২ ইনিংস বল করে ৩২.৬৫ গড়ে ২৯২ ‍টি উইকেট লাভ করেন। তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ বার ৫ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট লাভ করেছেন। ৫৪ রানে ৬ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।
২। স্যার গ্যারি সোবার্স (ওঃ ইন্ডিজ):  স্যার গ্যারি সোবার্স টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের অন্যতম এবং Garfield St Aubrun Sobersসর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার তিনি। বিশ্বের বাঘাবাঘা বোলারদের ত্রাস ছিলেন তিনি এবং বোলার হিসেবেও ছিলেন ভয়ংকর। ১৯৫৪ সালের ৩০ মার্চ কিংসটনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ পোর্ট অব স্পেনে সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জীবনের শেষ টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচটি খেলেন। দীর্ঘ ২০ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে তিনি ৯৩ টেস্টের ১৬০ ইনিংসে ব্যাট করে ৫৭.৭৮ গড়ে  ৮০৩২ রান করেন। ২৬ টি শতক এবং ৩০ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারিয়ারে। ৩৬৫* রানে অপরাজিত তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস যা এক সময় ব্যক্তিগত সর্বচ্চ রানের ইনিংস ছিলো।  বল হাতেও তিনি ছিলেন বেশ সফল। ৯৩ টেস্টের ১৫৯ ইনিংসে বল করে ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫ টি উইকেট লাভ করেন। ৬ বার তিনি ৫ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট লাভ করেন। ৭৩ রানে ৬ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।
৩। কপিল দেব (ভারত): কপিল দেব ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং সর্বকালের সেরা টেস্ট পেস বোলারদের মধ্যে শীর্ষেই থাকবেন তিনি। Kapildev Ramlal Nikhanjতার সময়ে তিনি সেরা অলরাউন্ডারদের অন্যতম ছিলেন। ১৯৭৮ সালের ১৬ অক্টোবর ফয়সালাবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ১৯৯৪ সালের ১৯ মার্চ হ্যামিলটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জীবনের শেষ টেস্টটি খেলেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১৩১ টেস্ট খেলে ১৮৪ ইনিংসে ব্যাট করে  ৩১.০৫ গড়ে ৫২৪৮ রান করেন। ৮ টি শতক এবং ২৭ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারিয়ারে। তার ব্যক্তিগত সর্বচ্চ রানের ইনিংসটি হচ্ছে ১৬৩। বল হাতেও তিনি ছিলেন আরো বেশি সফল। ১৩১ টেস্টের ২২৭ ইনিংসে বল করে ২৯.৬৪ গড়ে ৪৩৪ টি উইকেট লাভ করেন। ৮৩ রানে ৯ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি এক অবিস্মরনীয় নাম।
৪। ইয়ান বোথাম ( ইংল্যান্ড): স্যার ইয়ান বোথাম ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার  এবং টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। Image result for Sir Ian Botham১৯৭৭ সালের ২৮ জুলাই নাটিংহামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ১৯৯২ সালের ১৮ জুন লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের ইতি টানেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি দাপটের সাথে পারফর্ম করে গেছেন। ১০২ টেস্টের ১৬১ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৩.৫৪ গড়ে ৫২০০ রান করেন। ১৪ টি শতক এবং ২২ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারিয়ারে। ২০৮ তার ক্যারিয়ারের সর্বচ্চ রানের ইনিংস। বল হাতেও তিনি ছিলেন অনেক ভয়ঙ্কর। ১০২ টেস্টের ১৬৮ ইনিংসে হাত ঘুরিয়ে ২৮.৪০ গড়ে ৩৮৩ টি উইকেট পান। ক্যারিয়ারে তিনি ২৭ বার ৫ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট পান। ৩৪ রানে ৮ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট তাকে আজো সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করে এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তাকে নাইট উপাধি দেন।
৫। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ( নিউজিল্যান্ড): ড্যানিয়েল ভেট্টোরি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বিশেষত টেস্ট ক্রিকেটে। Image result for Daniel Vettori সদা হাস্যজ্বল চশমা পরা মানুষটি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী ওয়েলিংটনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১১৩ টেস্টের ১৭৪ ইনিংসে ব্যাট করে ৩০.০০ গড়ে ৪৫৩১ রান করেন। ৬টি শতক এবং ২৩ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারিয়ারে। ১৪০ তার ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত সর্বচ্চ রানের ইনিংস। বল হাতে তিনি ছিলেন আরো বেশি সফল। ১১৩ টেস্টের ১৮৭ ইনিংসে বল করে ৩৪.৩৬ গড়ে ৩৬২ টি উইকেট লাভ করেন। ২০ বার ৫ বা ততোধিক উইকেট পান এবং ৩ বার তিনি টেস্ট ম্যাচে ১০ বা  এর অধিক উইকেট লাভ করেন। ৮৭ রানে ৭ উইকেট তার ইনিংস সেরা এবং ১৪৯ রানে ১২ উইকেট তার টেস্ট সেরা বোলিং ফিগার।
৬। সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ): পরিসংখ্যান নয় পারফরমেন্স এর বিচারে সাকিব আল হাসান টেস্টে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এতে কোন সংশয় নেই। Image result for Shakib Al Hasanতিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টারবয়। বিশ্বক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের মত সব্যসাচী ক্রিকেটার বিরল। ব্যাট বল দুদিকেই সমান পারদর্শী একজন ক্রিকেটার তিনি। ২০০৭ সালের ১৮ মে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে তার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং তিনি দাপটের সাথে এখনও খেলে চলেছেন। ছোট দলের বড় তারকা হওয়ার কারণে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলার সুযোগ খুব কমই পায়। এজন্য তিনি এ পর্যন্ত মাত্র ৫৬ টি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ৫৬টি টেস্টের ১০৫ ইনিংস ব্যট করে ৩৯.৪০ গড়ে ৩৮৬২ রান করেন। ৫ টি শতক এবং ২৪ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারয়ারে। ২১৭ তার ক্যারিয়ার সেরা টেস্ট রানের ইনিংস। এছাড়া তিনি ৫৬ টেস্টের মাত্র ৯৫ ইনিংসে বল করে ৩১.১২ গড়ে ২১০ টি উইকেট লাভ করেন। ক্যারিয়ারে তিনি ১৮ বার ৫ বা ততোধিক উইকেট পান এক ইনিংসে এবং ২ বার ১০ বা ততোধিক উইকেট পান টেস্টে ম্যাচে। ৩৬ রানে ৭ উইকেট তার ইনিংস সেরা এবং ১২৪ রানে ১০ উইকেট তার টেস্ট সেরা বোলিং ফিগার। বুঝা যাচ্ছে যে তার টেস্ট সংখ্যা যদি ১০০ হতো তাহলে তিনি সর্বকালের সেরা টেস্ট অলরাউন্ডার হয়ে যেতে পারতেন পরিসংখ্যান এর দিক দিয়েও। এর পরেও পারফরমেন্স এর বিচারে সর্বকালের সেরাদের একজন থাকবেন তিনি। মহান এই অলরাউন্ডারকে সমগ্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা থাকলো।
৭। এন্ড্রু ফ্লিনটফ (ইংল্যান্ড):  এন্ড্রু ফ্লিনটফ ইয়ান বোথামের পরে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। Related image১৯৯৮ সালের ২৩ জুলাই নাটিংহামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেন। তার ১১ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মাত্র ৭৯ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ১৩০ ইনিংসে ব্যাট করে ৩১.৭৭ গড়ে ৩৮৪৫ রান করেন যার মধ্যে ৫টি শতক এবং ২৬ টি অর্ধশতক রয়েছে।  ১৬২ রান তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। বল হাতেও তিনি ছিলেন বেশ সফল। ৭৯ টেস্টের ১৩৭ ইনিংসে বল করে ৩২.৭৮ গড়ে ২২৬ টি উইকেট লাভ করেন। ৩ বার তিনি ৫ উইকেট লাভ করেন। ৫৮ রানে ৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। তার সময়ে তাকে ইংল্যান্ডের চৌকশ অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
৮। ইমরান খান ( পাকিস্তান): পাকিস্তানের সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইমরান খান ছিলেন Image result for Imran Khanতৎসময়ের বোলিং অলরাউন্ডারদের মধ্যে অন্যতম সেরা। তিনি ছিলেন আগুন ঝরা পেস বোলার এবং পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ছিলেন সফল। ১৯৭১ সালের ৩ জুন বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে তার জীবনের প্রথম টেস্টটি খেলেন। ১৯৯২ সালের ২৭ জানুয়ারী ফয়সালাবাদে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জীবনের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেন। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ৮৮ টি টেস্ট খেলে ১২৬ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৭.৬৯ গড়ে ৬টি শতক এবং ২৬ টি অর্ধশতক সহ ৩৮০৭ রান করেন। ১৩৬ রান তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। বল হাতে তিনি ছিলেন ব্যাটিংয়ের তুলনায় বেশ সফল। ৮৮ টেস্টের ১৪২ ইনিংসে বল করে ২২.৮১ গড়ে ৩৬২ টি উইকেট লাভ করেন। ২৩ বার তিনি ৫ বা ততোধিক উইকেট পান ইনিংসে এবং ৬ বার ১০ বা ততোধিক উইকেট লাভ করেন টেস্ট ম্যাচে। ৫৮ রানে ৮ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে বোলিং ফিগার এবং ১১৬ রানে ১৪ উইকেট তার টেস্ট ম্যাচের সেরা বোলিং পারফরমেন্স।
৯। শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা): শন পোলক ও জ্যাক ক্যালিস দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা অলরাউন্ডার। Image result for Shaun Pollock ১৯৯৫ সালের ১৬ নভেম্বর সেঞ্চুরীয়ানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক হয় এবং ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারী ডারবানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেন। দীর্ঘ ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১০৮ টি টেস্ট খেলে ১৫৬ ইনিংস ব্যাট করে ২টি শতক এবং ১৬ টি অর্ধশতক সহ ৩২.৩১ গড়ে ৩৭৮১ রান করেন। ১১১ রান তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। বল হাতেও তিনি ছিলেন বেশি সফল। ১০৮ টেস্টের ২০২ ইনিংসে বল করে ২৩.১১ গড়ে ৪২১ টি উইকেট লাভ করেন। ১৬ বার তিনি ৫ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন। এছাড়া টেস্টে তিনি ১ বার ১০ উইকেটও পান। ৮৭ রানে ৭ উইকেট তার ইনিংস সেরা এবং ১৪৭ রানে ১০ উইকেট তার ম্যাচ সেরা বোলিং ফিগার।

১০। স্যার রিচার্ড হ্যাডলি (নিউজিল্যান্ড): রিচার্ড হ্যাডলি নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। Image result for Sir Richard Hadlee হয়তো পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে আছেন কম টেস্ট খেলার কারণে। তাকে নিউজিল্যান্ডবাসী সর্বকালের সেরা টেস্ট অলরাউন্ডার হিসেবে মনে করেন। ১৯৭৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারী ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক হয় এবং ১৯৯০ সালের ৫ জুলাই বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার শেষ টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৮৬ টি। ৮৬ টেস্টের ১৩৪ ইনিংসে ব্যাট করে ২টি শতক এবং ১৫ টি অর্ধশতক সহ ২৭.১৬ গড়ে ৩১২৪ রান করেন। অপরাজিত ১৫১ তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। বল হাতে তিনি ছিলেন বেশি সফল। ৮৬ টেস্টের ১৫০ ইনিংসে বল করে ২২.২৯ গড়ে ৪৩১ টি উইকেট লাভ করেন। ক্যারিয়ারে তিনি ৩৬ বার ৫ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন ইনিংসে এবং ৯ বার ১০ বা ততোধিক উইকেট পেয়েছেন ম্যাচে। ইনিংসে ৫২ রানে ৯ উইকেট এবং ম্যাচে ১২৩ রানে ১৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। বোলার হিসেবে তিনি ছিলেন ভয়ংকর এক বোলারের নাম। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে টেস্টে ৩৬ বার ৫ বা তারচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া একেবারে সহজ কাজ নয়। এখানে অন্তত তিনি অন্যান্য অলরাউন্ডারদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। 

ওয়ানডেতে সর্বকালের সেরা ১০ জন অলরাউন্ডার কে কে?

১৯৭৩ সাল থেকে অদ্যবধি ওয়ানডে ক্রিকেটে ভুরি ভুরি অলরাউন্ডার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। বিশ্বকাপে জেতানে থেকে শুরু করে সর্বস্তরের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্সের ছড়াছড়ি। অলরাউন্ডার সেই ক্রিকেটার যিনি ব্যাটে বলে দুক্ষেত্রেই দলের জন্য অবদান রাখেন। বর্তমান যুগের ক্রিকেটারদের মধ্যে অলরাউন্ডারদের অবদান অনস্বীকার্য। একজন সাকিব আল হাসানের কথাই ধরুন, যাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয় বলা হয়। সেই ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে আজও অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে প্রায়ই শীর্ষস্থান দখল করে আসছেন। আজকে আমরা জানবো ১৯৭৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ওয়ানডে বা একদিনের ম্যাচে  সেরা ১০ জন অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান।


TAUNTON, ENGLAND - JUNE 17: Shakib Al Hasan of Bangladesh bats during the Group Stage match of the ICC Cricket World Cup 2019 between West Indies and Bangladesh at The County Ground on June 17, 2019 in Taunton, England. (Photo by Alex Davidson/Getty Images)

ক্রমিকনাম ও দেশম্যাচরান সংখ্যাউইকেট সংখ্যা
১। সনাৎ জয়সুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)৪৪৫ ১৩৪৩০ ৩২৩
২।জ্যাক ক্যালিস (দঃ আফ্রিকা)৩২৮ ১১৫৭৯ ২৭৩
৩।শহীদ আফ্রিদী (পাকিস্তান)৩৯৮৮০৬৪ ৩৯৫
৪।সাকিব আল হাসান(বাংলাদেশ) ২০৬ ৬৩২৩ ২৬০
৫। আব্দুর রাজ্জাক (পাকিস্তান) ২৬৫ ৫০৮০ ২৬৯
৬। ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান)৩৫৬ ৩৭১৭৫০২
৭। কপিল দেব (ভারত) ২২৫ ৩৭৮৩ ২৫৩
৮। শন পোলক (দঃআফ্রিকা) ৩০৩ ৩৫১৯ ৩৯৩
৯। ক্রিস কোয়ার্নস (নিউজিল্যান্ড) ২১৫৪৯৫০ ২০১
১০। ক্রিস হ্যারিস (নিউজিল্যান্ড) ২৫০ ৪৩৭৯২০৩

শীর্ষ ১০ জন ওয়ানডে অলরাউন্ডার বাছাই করতে নূন্যতম ২০০ উইকেট এবং ৩০০০ রানকে গ্রহণ করা হয়েছে।
**সনাৎ জয়সুরিয়া, জ্যাক ক্যালিস এবং শহীদ আফ্রিদীর পর সাকিব আল হাসান চতুর্থ অলরাউন্ডার যিনি একদিনের ম্যাচে কমপক্ষে ৬০০০ রান এবং ২৫০ উইকেট পেয়েছেন।
*** সাকিব আল হাসান সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ৬০০০ রান করা এবং ২৫০ উইকেট পাওয়া অলরাউন্ডার। তিনি এ রেকড করতে ২০২ ম্যাচ খেলেছেন যেখানে শহীন আফ্রিদী ২৯৪ ম্যাচ, জ্যাক ক্যালিস ২৯৬ ম্যাচ এবং জয়সুরিয়া ৩০৪ ম্যাচ খেলেছেন।
*** সাকিব আল হাসান বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটোর যিনি ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত লম্বা সময় ধরে ওয়ানডের শীর্ষস্থনে নিয়মিত থাকা একমাত্র ক্রিকেটার। অন্যরা সাময়ীক শীর্ষ হলেও পরে ঝরে গেছেন।

এখন আসুন শীর্ষ ১০ জন অলরাউন্ডারের প্রফাইল নিয়ে আলোচনা করা যাক।
১। সনাৎ জয়সুরিয়া (শ্রীলঙ্কা): ১৯৮৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হওয়ার পরে ২০১১ সালের ২৮ জুন ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খেলেছেন দাপটের সাথে। মাতারা হ্যারিকেন খ্যাত এই অলরাউন্ডার মূলত পরিচিত তিনি আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে। ৪৪৫ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৩৩ ইনিংস ব্যাট করে, ১৮ বার অপরাজিত থেকে ১৩,৪৩০ রান করেন। যার সর্বচ্চ রানের ইনিংস ১৮৯, তার ব্যাটিং গড় ৩২.৩৬ এবং স্ট্রাইকরেট ৯১.২০। তিনি ১৫০০ টি ৪ এবং ২৭০ টি ছক্কার মালিক। ২৮ টি শতক এবং ৬৮ টি অর্ধশতক তার ব্যাটিং ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। তিনি ৪৪৫ ম্যাচে ৩৬৮ ইনিংসে বল করে ৩৬.৭৫ গড়ে ৩২৩ টি উইকেট পান। তার  শ্রেষ্ট বোলিং পারফরমেন্ট হচ্ছে ২৯ রানে ৬ উইকেট। তিনি শ্রীলংকার বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
২। জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা): জ্যাক ক্যালিস দক্ষিণ আফ্রিকা দলের একজন অন্যতম সেরা খেলোয়ার। কারো কারো মতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।
১৯৯৬ সালের ৯ই জানুয়ারী কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিশেষ হয় তার এরপরে দাপিয়ে খেলেছেন দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর। ২০১৪ সালের ১২ জুলাই শ্রীলংকার বিপক্ষে হাম্বানটোটায় তিনি শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৩২৮ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩১৪ ইনিংসে ৪৪.৩৬ গড়ে ১১,৫৭৯ রান করেন।১৩৯ হচ্ছে তার ব্যক্তিগত সর্বচ্চ রানের ইনিংস। তিনি ১৭ টি শতক এবং ৮৬ টি অর্ধশতকের মালিক। ৯১১ টি ৪ এবং ১৩৭ টি ছক্কার মার আছে তার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। তিনি ২৮৩ ইনিংসে বল করে ৩১.৭৯ গড়ে ২৭৩ টি উইকেট পেয়েছেন।তার সেরা বোলিং ফিগার হচ্ছে ৩০ রান দিয়ে ৫  উইকেট।

৩।শহীদ আফ্রিদী (পাকিস্তান): ”বুমবুম আফিদী” নামে তিনি বেশি পরিচিত। সদা চঞ্চল, মারমার কাটকাট ব্যাটিং এর জন্য তিনি বেশি জনপ্রিয়। টি২০ যুগের আগে আফ্রিদী মানেই যেন বিনোদন। ছার ও ছক্কার ফুলঝুুরি। আমার মনে হয় সেই জনপ্রিয়তা থেকেই আইসিসি টি২০ ক্রিকেটের প্রচলন করেন।তিনি ১৯৯৬ সালে ৪ ঠা অক্টোবর শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে শতরান করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। তার রেকর্ডটি প্রায় ১৭ বছর টিকে ছিলো পরে কোরি এন্ডারসন ভাঙেন সেটি।
Shahid Afirdi১৯৯৬ সালের ২রা অক্টোবর কেনিয়ার নাইরোবীতে কেনিয়ার বিপক্ষে তার একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয়  এবং ২০১৫ সালের ২০ মার্চ এডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ একদিনের ম্যাচ খেলেন তিনি।দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ৩৯৮ ম্যাচে ৩৬৯ ইনিংসে ব্যাট করে ২৩.৫৭ গড়ে ৮,০৬৪ রান করেন।তিনি ৫ টি শতক এবং ৮ টি অর্ধশতক এর মালিক। সর্বচ্চ রানের ইনিংস হচ্ছে ১২৪। তিনি একদিনের ম্যাচে ৩৫১ টি ছক্কা এবং ৭৩০ টি চার মারেন। তিনি ৩৭২ ইনিংসে বল করে ৩৪.৫১ গড়ে ৩৯৫ টি উইকেট পেয়েছেন। তার সেরা বোলিং হচ্ছে ১২ রানে ৭ উইকেট।

৪। সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ): বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টারবয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তী। নিঃসন্দেহে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটেরে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।তার হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে এক নতুন বিপ্লব। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।  একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি খুব তাড়াতাড়িই সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার  হতে চলেছেন। সদা হাস্যজ্বল মাগুরায় জন্ম নেওয়া ছেলেটিই হচ্ছেন সাকিব আল হাসান।

২০০৬ সালের ৬ ই আগস্ট জিম্বাবুয়ের হারারেতে অভিষেক হয় এবং আজ পর্যন্ত বীরদর্পে খেলে চলেছেন। সর্বশেষ ২০১৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপে তিনি ৬০৬ রান করে সেরা ৩ জন রান সংগ্রাহকের তালিকায় ছিলেন। এবং তিনিই একমাত্র অলরাউন্ডার ‍যিনি বিশ্বকাপে ১০০০+ রান এবং ৩০+  উইকেট নিয়েছেন। তিনিই সেরা ১০ জনের মধ্যে একমাত্র অলরাউন্ডার যিনি এখনো খেলে চলেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ২০৬ টি  এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩৭.৮৬ গড়ে ৬৩২৩ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ৮২.৭৫। তিনি  এখন পর্যন্ত ৯ টি শতক এবং ৪৭ টি অর্ধশতকের মালিক। ব্যক্তিগত সর্বচ্চ রানের ইনিংস হচ্ছে অপরাজিত ১৩৪। তিনি ৫৭৪ টি ৪ এবং ৪২ টি ৬ মেরেছেন।  তিনি ২০৬ ম্যাচে ২০৩ ইনিংসে ২৬০ টি উইকেটে পেয়েছেন। তার সেরা বোলিং হচ্ছে ২৯ রানে ৫ উইকেট। তিনি  আরো ৫-৬ বছর খেললে পরিসংখ্যানে হয়তো সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হতে পারবেন।

৫। আব্দুর রাজ্জাক (পাকিস্তান): আব্দুর রাজ্জাক পাকিস্তানের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ১৯৯৬ সালের ১লা নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লাহরে তার একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলেন তিনি।দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২৬৫ ম্যাচ খেলে ২২৮ ইনিংসে ব্যাট করে ২৯.৭০ গড়ে ৫০৮০ রান করেন। তার ৩ টি শতক এবং ২৩ টি অর্ধশতকের ইনিংস আছে। ছক্কা মারায় তিনি অনেক পারদর্শী ছিলেন। তিনি ১২৪ টি ৬ এবং ৩৮২ টি ৪ মারেন। এছাড়া ২৬৫ ম্যাচের ২৫৪ ইনিংসে ২৬৯ টি উইকেট লাভ করেন। ৩৫ রানে ৬ উইকেট তার সেরা বোলিং ফিগার। তাকে একজন ভয়ঙ্কর অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিপক্ষ সবসময় সমীহ করতো।

৬। ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান):   ওয়াসিম আকরাম পাকিস্তানের একদিনের আন্তর্জাতিক ত্রিকেটে সর্বকালের সেরা বোলার এবং সেরা একজন অলরাউন্ডার। বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটসমানের জন্য তিনি ত্রাশ ছিলেন।বিশ্বের সর্বকালের সেরা বোলারদের মধ্যে তিনি অন্যতম।১৯৮৪ সালের ২৩ নভেম্বর ফয়সালাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০০৩ সালের ৪ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে শেষ একদিনের ম্যাচ খেলেন। দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ছিলেন অন্যতম সফল বোলার। বিশ্বকাপে তিনি সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় ৪ নম্বরে আছেন। তিনি ৩৫৬ ম্যাচের ২৮০ ইনিংসে ১৬.৫২ গড়ে ৩৭১৭ রান করেন। তার ক্যারিয়ারে ৬ টি অর্ধশতক আছে। ৮৬ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ার সর্বচ্চ। তার পরিচয় মূলত বোলার হিসেবে। তিনি ৩৫৬ ম্যাচের ৩৫১ ইনিংসে ২৩.৫২ গড়ে ৫০২ টি উইকেট নিয়েছেন যা একসময় সর্বচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। বর্তমানে উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় তিনি মুত্তিয়া মুরালিধরণের পরেই ২য় স্থানে অবস্থান করছেন। ক্যারিয়ারে তিনি ৬ বার ৫ বা তার বেশি উইকেট পান।১৫ রানে ৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।তার ইকোনোমি রেট ৩.৮৯ ওভার প্রতি যা আজও খুবই ঈর্ষনীয়।
৭। কপিল দেব (ভারত): একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কপিল দেব ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার।১৯৭৮ সালের ১লা অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে কোয়েটায় তার অভিষেক হয় এবং ১৯৯৪ সালের ১৭ অক্টোবর ফরিদাবাদে ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ একদিনের ম্যাচ খেলেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২২৫ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৯৮ ইনিংসে ব্যাট করে ২৩.৭৯ গড়ে ৩৭৮৩ রান করেন। ১ টি শতক এবং ১৪ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারিয়ারে। ১৭৫ তার সর্বচ্চ রানের ইনিংসটি অনেকদিন ধরে ভারতের সর্বচ্চ এক ইনিংসে ব্যক্তিগত রান হিসেবে ছিলো। বোলিং  এ তিনি ছিলেন আরো বেশি পারদর্শী। ২২৫ ম্যাচের ২২১ ইনিংসে বল করে ২৭.৪৫ গড়ে ২৫৩ উইকেট নিয়েছেন। ৪৩ রানে ৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।

৮।শন পোলক (দঃআফ্রিকা): শন পোলক দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা অলরাউন্ডার। ১৯৯৬ সালের ৯ জানুয়ারী কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার একদিনের ম্যাচে অভিষেক হয় এবং ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে জোহান্সবার্গে শেষ ম্যাচ খেলে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে তিনি ৩০৩ ম্যাচ খেলে ২০৫ ইনিংস ব্যাট করে ২৬.৪৫ গড়ে ৩৫১৯ রান করেন। তার ক্যারিয়ারে ১ টি শতক এবং ১৪ টি অর্ধশতক রয়েছে। ব্যক্তিগত সর্বচ্চ ইনিংস হচ্ছে ১৩০ রান। ২৪৮ টি ৪ এবং ৫৮ টি ছক্কা রয়েছে তার ক্যারিয়ারে। বোলার হিসেবে তিনি ছিলেন বেশ সফল এবং তার সময়ে তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা বোলার। তিনি ৩০৩ ম্যাচ খেলে ২৯৭ ইনিংসে ৩৯৩ টি উইকেট পান। ক্যারিয়ারে তিনি ৫ বার ৫ বা তার বেশি উইকেপ পেয়েছেন। ৩৫ রানে ৬ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের এক মহানায়ক।

 ৯। ক্রিস কোয়ার্নস (নিউজিল্যান্ড): ক্রিস কোয়ার্নস ছিলেন নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বেসিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারী  ম্যাকলিনপার্কে শ্রীলংকার বিপক্ষে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেন। ২১৫ ম্যাচ খেলে ১৯৩ ইনিংস ব্যাট করে ২৯.৪৬ গড়ে ৪৯৫০ রান করেন। ৪ টি শতক এবং ২৬ টি অর্ধশত আছে তার ক্যারিয়ারে। ১১৫ তার ব্যক্তিগত সর্বচ্চ রানের ইনিংস। ৩৪৫ টি ৪ এবং ১৫৩ টি বিশাল ছক্কার মার আছে তার ক্যারিয়ারে। বল হাতেও তিনি ২১৫ ম্যাচ খেলে ১৮৬ ইনিংসে বল করে ৩২.৮১ গড়ে ২০১ টি উইকেট পান। ৪২ রানে ৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে তাকে একজন লিজেন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১০। ক্রিস হ্যারিস (নিউজিল্যান্ড): ক্রিস হ্যারিস নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং ২০০৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সেই সিডনিতে সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে ২৫০ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ২১৩ ইনিংস ব্যাট করে  ২৯ গড়ে ৪৩৭৯ রান করেন। ১ টি শতক এবং ১৬ টি অর্ধশতক আছে তার ক্যারিয়ারে। এছাড়া তিনি ২৩২ ইনিংস বল করে ৩৭.৫০ গড়ে ২০ টি উইকেট পান।৪২ রানে ৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য তার অবদান স্মরনীয় হয়ে থাকবে।